হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও ছাত্রদলের কথিত হামলায় গুরুতর আহত জাতীয় ছাত্রশক্তির নবীগঞ্জ উপজেলা কমিটির সংগঠক আলিফ চৌধুরীকে (১৯) আশঙ্কাজনক অবস্থায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্স/উড়োজাহাজে ঢাকায় আনা হচ্ছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে।
এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য ও মিডিয়া উপকমিটির প্রতিনিধি ইয়াসির আরাফাত বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) হবিগঞ্জে এনসিপির কর্মসূচিতে সশস্ত্র হামলার সময় ১৯ বছর বয়সী আলিফ চৌধুরী গুরুতর আহত হন। এনসিপির অভিযোগ, হামলাকারীরা লোহার রড দিয়ে সরাসরি আলিফের চোখ লক্ষ্য করে আঘাত করে। রাতে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হবিগঞ্জ সদর হাসপাতাল থেকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
তবে আজ বুধবার সেখানকার চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আঘাতের তীব্রতার কারণে তার দৃষ্টিশক্তি স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার চরম আশঙ্কা রয়েছে। তাই জরুরি ভিত্তিতে তাকে ঢাকায় স্থানান্তরের পরামর্শ দেওয়া হয়।
হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদ আহসান বলেন, “মাত্র ১৯ বছরের একটি সম্ভাবনাময় ছেলের চোখে সরাসরি রড দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় বসে ঠিক বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের মতোই বিরোধী রাজনৈতিক দলের ওপর নৃশংস হামলা চালাচ্ছে। আমরা অবিলম্বে এই চিহ্নিত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে কঠোর আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।”
এনসিপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, মঙ্গলবার হবিগঞ্জে তাদের ‘জুলাই পদযাত্রা’য় ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা অতর্কিতে হামলা চালায়। এই হামলায় এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, কেন্দ্রীয় সংগঠক নাহিদ উদ্দিন তারেক, হবিগঞ্জ জেলা এনসিপির সদস্য সচিব মাহবুবুল বারী চৌধুরী মুবিনসহ অন্তত ১৫ জন নেতাকর্মী গুরুতর আহত হন।
ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় এনসিপি নেতা ইয়াসির আরাফাত বলেন, “হবিগঞ্জে বিএনপির সন্ত্রাসীরা আমাদের ওপর যে সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে, তা আবারও প্রমাণ করে তারা সুস্থ ও গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না; বরং পুরোনো ফ্যাসিবাদী আমলের রাজনীতির চর্চায় লিপ্ত।”