দেশে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের মধ্যে খেলাধুলার সার্বিক প্রসার ঘটানো, নতুন ও মেধাবী ফুটবলার অন্বেষণ এবং শিক্ষার্থীদের মাদক, সন্ত্রাস ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখার লক্ষ্যে ‘প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা-২০২৬’-এর পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক স্বাক্ষরিত এক জরুরি আদেশে এই নীতিমালা আনুষ্ঠানিকভাবে জারি করা হয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সার্বিক নির্দেশনায় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে দেশজুড়ে মোট চারটি স্তরে (উপজেলা/থানা, জেলা, শিক্ষা অঞ্চল এবং জাতীয় পর্যায়) এই ফুটবল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। নীতিমালার আওতায় মাধ্যমিক ও সমমান এবং উচ্চমাধ্যমিক ও সমমান পর্যায়ের ছেলে ও মেয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য চারটি আলাদা আলাদা টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনস্ত নিবন্ধিত সকল সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা এবং কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নিতে পারবে। মাধ্যমিক পর্যায়ে খেলোয়াড়দের বয়স সর্বোচ্চ ১৭ বছর এবং উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে সর্বোচ্চ ১৯ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিটি দলে ১৬ জন খেলোয়াড় এবং প্রতিষ্ঠান মনোনীত ২ জন কর্মকর্তা (ম্যানেজার ও কোচ) সহ মোট ১৮ জন সদস্য থাকবেন। তবে বালিকা দলের ক্ষেত্রে আবশ্যিকভাবে একজন নারী শিক্ষক রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
জাতীয় পর্যায়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মোট ৩২টি দল অংশগ্রহণ করবে (মাধ্যমিক পর্যায়ে বালক-বালিকা ১৬টি এবং কলেজ পর্যায়ে বালক-বালিকা ১৬টি)।
ঢাকা, খুলনা, রাজশাহী, রংপুর, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ শিক্ষা অঞ্চল থেকে ১টি করে এবং কুমিল্লা ও সিলেট শিক্ষা অঞ্চল থেকে যৌথভাবে ১টি দল নির্বাচিত হয়ে জাতীয় পর্যায়ে খেলার যোগ্যতা অর্জন করবে। পুরো টুর্নামেন্টটি নকআউট পদ্ধতিতে ৯০ মিনিটের খেলায় অনুষ্ঠিত হবে। নির্ধারিত সময়ে ম্যাচ অমিমাংসিত থাকলে সরাসরি টাইব্রেকারের মাধ্যমে বিজয়ী দল নির্ধারণ করা হবে।
প্রতিযোগিতায় কোনো প্রতিষ্ঠান অনিয়ম বা অবৈধ/বহিরাগত খেলোয়াড় অন্তর্ভুক্ত করলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী, শারীরিক শিক্ষার শিক্ষক এবং প্রতিষ্ঠান প্রধানের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার স্পষ্ট বিধান রাখা হয়েছে।
এছাড়া পাতানো খেলায় জড়িত থাকা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট দলকে টুর্নামেন্ট থেকে ২ বছরের জন্য বহিষ্কার করা যাবে। রেফারি বা সহকারী রেফারিকে লাঞ্ছিত বা অপমানিত করলে সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়কে প্রতিযোগিতা থেকে আজীবন বহিষ্কার এবং আপিল উপ-কমিটির মাধ্যমে অনিয়মের বিচার নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পুরস্কার হিসেবে জাতীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন ও রানার্স-আপ দলকে ট্রফি, মেডেল, সার্টিফিকেট ও নগদ আর্থিক সম্মাননার পাশাপাশি টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়, সেরা গোলরক্ষক ও সর্বোচ্চ গোলদাতাকে বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত করা হবে।