আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা ও অযোগ্যতার ক্ষেত্রে কঠোর ও নীতিগত কিছু পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রচলিত অনিয়ম রোধ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতে ঋণখেলাপির গ্যারান্টার, পরিষেবা বিলখেলাপি, এমপিওভুক্ত শিক্ষক, লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তি এবং দ্বৈত নাগরিকরা আর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।
রাজধানীর শের-ই-বাংলা নগরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিশনের এক গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সভায় এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভা শেষে সাংবাদিকদের এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেন ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
কমিশনের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত ও প্রস্তাব অনুযায়ী, নিম্নোক্ত ব্যক্তিরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা হারাবেন:
এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও লাভজনক পদের কর্মকর্তা:
ঋণের গ্যারান্টার বা জামিনদার: শুধু ব্যক্তিগত ঋণখেলাপিই নয়, কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির ঋণের জামিনদার/গ্যারান্টার হিসেবে যুক্ত থাকা ব্যক্তিও অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।
প্রতিষ্ঠানের নামীয় খেলাপী: কোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার প্রধান/কর্ণধার হলে এবং সেই প্রতিষ্ঠানের নামে দেনা বা বকেয়া থাকলে তিনি নির্বাচন করতে পারবেন না।
পরিষেবা ও রাজস্ব বিলখেলাপি: বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি ও ভূমি করসহ সরকারি সেবার ইউটিলিটি বিল বকেয়া থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অযোগ্য হবেন।
দ্বৈত নাগরিকত্ব:
সংবাদ সম্মেলনে সচিব আখতার আহমেদ আরও জানান, বর্তমানে স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন আইনের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা ও কার্যপদ্ধতিতে কিছু অসামঞ্জস্য রয়েছে। তাই সব আইনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা সমান ও স্পষ্ট করার সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচনের সময় নিরাপত্তা জোরদারে প্রয়োজন সাপেক্ষে সশস্ত্র বাহিনীর আইনগত ভূমিকাও যেন স্পষ্ট থাকে, সেই সংক্রান্ত প্রস্তাবনা যুক্ত করা হয়েছে।
অন্য এক প্রসঙ্গে ইসি সচিব উল্লেখ করেন, বর্তমানে বাংলাদেশে ১৬ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের তথ্য সংগ্রহ করা হয়, যা তারা ১৮ বছর পূর্ণ না করা পর্যন্ত নিস্ক্রিয় অবস্থায় থাকে এবং ১৮ বছর পূর্ণ হলে তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভোটার তালিকায় যুক্ত হন।