যন্তর মন্তরে ‘তেলাপোকাদের’ আন্দোলন চলবে! সরকারের কাছে তাদের প্রধান ৩ দাবি কী?


আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ট্রেন্ডনিউজবিডি , আপডেট করা হয়েছে : 21-07-2026

যন্তর মন্তরে ‘তেলাপোকাদের’ আন্দোলন চলবে! সরকারের কাছে তাদের প্রধান ৩ দাবি কী?
নতুন করে সংসদ ভবন অভিযান নয়, যন্তর মন্তরেই অবস্থান চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র; আহতদের দেখতে হাসপাতালে রাহুল-কেজরিওয়াল

    ভারতের রাজধানী দিল্লিতে সংসদ ভবন অভিযানকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রে পরিণত হওয়ার পরদিনও থামেনি শিক্ষার্থীদের উত্তাপ। আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি লাঠিচার্জ ও ধরনামঞ্চ গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর আজ মঙ্গলবার ভোরে আবারও দিল্লির যন্তর মন্তরে ফিরে এসেছেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (CJP) নেতারা। সিজেপির অন্যতম শীর্ষ নেতা অভিজিৎ দিপকে আজ এক সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, সরকারের কাছে পেশ করা তিন দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত যন্তর মন্তরেই তাঁদের লাগাতার অবস্থান আন্দোলন চলবে। তবে কৌশলগত কারণে আপাতত তাঁরা নতুন করে সংসদ ভবন অভিযানের ডাক দিচ্ছেন না।

আজ সকালে যন্তর মন্তরের ধরনামঞ্চে ফিরে এসে অভিজিৎ দিপকে জানান, নতুন করে সংসদ অভিযানে না যাওয়ার প্রধান কারণ হলো আন্দোলনকারীদের ওপর ফের হামলা চালানোর ও তরুণ সমাজকে বদনাম করার যে সুযোগ পুলিশ খুঁজছে, তাঁরা সেই সুযোগ দেবেন না। গতকালের পুলিশি বর্বরতায় আহত হাজার হাজার শিক্ষার্থীদের কাছে সোশ্যাল মিডিয়া এক্সে (X) খোলা বার্তা দিয়ে ক্ষমা চেয়েছেন অভিজিৎ। তিনি লেখেন, “অমানবিক দিল্লি পুলিশের নৃশংসতা থেকে আপনাদের রক্ষা করতে পারিনি, সেজন্য আমি ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমাপ্রার্থী। একজন মন্ত্রীকে রক্ষা করতে গিয়ে সরকার নিরীহ ছাত্রছাত্রীদের রক্তে হাত রাঙিয়েছে। তবে আপনাদের অধিকারের স্বার্থে এই লড়াই শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত জারি থাকবে।”

আন্দোলনকারীদের এই ক্ষোভের পেছনে রয়েছে সরকারের কাছে পেশ করা তাঁদের সুনির্দিষ্ট তিনটি প্রধান দাবি। ককরোচ জনতা পার্টির দুই মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাংকা কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডার কাছে লিখিত স্মারকলিপির মাধ্যমে এই দাবিগুলো পেশ করেন। তাঁদের মূল ৩টি দাবি হলো:

১. প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষাব্যবস্থার চরম অচলাবস্থার দায়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অবিলম্বে পদচ্যুত বা বরখাস্ত করতে হবে।

২. পরিবেশকর্মী ও আন্দোলনকারী সোনম ওয়াংচুককে হাসপাতাল থেকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে।

৩. সাম্প্রতিক এই ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে যে ২০ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন, তাঁদের প্রতিটি পরিবারকে ১ কোটি টাকা করে আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে।

অন্যদিকে গতকালের অভূতপূর্ব বিক্ষোভ ও সহিংসতার ঘটনার পর আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে দিল্লি পুলিশ। ইতিমধ্যে ৫টি পৃথক এফআইআর দায়ের করে ৭০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে। এই আন্দোলনের পেছনে বড় কোনো রাজনৈতিক চক্রান্ত বা বৈদেশিক ইন্ধন রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে গো গোয়েন্দারা। কর্ণাটকের বিজেপি নেতা কে সুধাকর দাবি করেছেন, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও নেপালের মতো ভারতের সরকারকেও ক্ষমতাচ্যুত করার চক্রান্তের অংশ এই আন্দোলন। তবে পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, গতকালের মিছিলে অন্তত ৫০ হাজার তরুণ অংশ নিয়েছিলেন। গত ৪০ বছরের ইতিহাসে কোনো ছাত্র আন্দোলন এভাবে পুলিশের ব্যারিকেড ও গাড়ি উল্টে দিয়ে সংসদের এত কাছাকাছি পৌঁছাতে পারেনি, যা পুলিশ ও গোয়েন্দা প্রশাসনের এক চরম ব্যর্থতা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও পুলিশি অত্যাচারের প্রতিবাদে আজ টানা দ্বিতীয় দিনের মতো উত্তাল ছিল ভারতের সংসদ ভবন। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ও আম আদমি পার্টির (এএপি) অরবিন্দ কেজরিওয়ালসহ শীর্ষ বিরোধী নেতারা রাম মনোহর লোহিয়া (আরএমএল) হাসপাতালে গিয়ে পুলিশি হামলায় আহত শিক্ষার্থীদের শারীরিক খোঁজখবর নেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নীরবতার কঠোর সমালোচনা করে রাহুল গান্ধী বলেন, “দেশের শিক্ষাব্যবস্থা উইয়ে খাওয়া কাঠের মতো ভেতরের দিক থেকে ফোঁপড়া হয়ে গেছে। পুলিশ দিয়ে পেটানোর আগে প্রধানমন্ত্রীর উচিত এই ছাত্র সমাজের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া।” তবে এনডিএ সংসদীয় দলের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আশ্বাস দিয়েছেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে এবং একটি ত্রুটিমুক্ত পরীক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলাই তাঁদের মূল লক্ষ্য।


অফিস: নিউ ইস্কাটন রোড, মগবাজার, ঢাকা-১০০০

ইমেইল : info@trendnewsbd.com