তামিলনাড়ুতে গরু জবাই নিষেধাজ্ঞায় সুপ্রিম কোর্টের স্থগিতাদেশ, স্বস্তিতে মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের সরকার!


আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক | ট্রেন্ডনিউজবিডি | সোহেল জুলফিকার , আপডেট করা হয়েছে : 14-07-2026

তামিলনাড়ুতে গরু জবাই নিষেধাজ্ঞায় সুপ্রিম কোর্টের স্থগিতাদেশ, স্বস্তিতে মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের সরকার!

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট তামিলনাড়ু রাজ্যে ঈদুল আজহাসহ যেকোনো দিনে গরু ও বাছুর জবাইয়ের ওপর মাদ্রাজ হাইকোর্টের দেওয়া নিষেধাজ্ঞার রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত করেছে। দেশের সর্বোচ্চ আদালত জানিয়েছে, হাইকোর্টের ওই আদেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘সংশোধন’ প্রয়োজন এবং তামিলনাড়ুর বিদ্যমান আইন বিবেচনায় বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা উচিত। গত সোমবার প্রকাশিত এই রায়ের মাধ্যমে তামিলনাড়ু রাজ্য সরকারের করা আপিলে একটি বড় ধরনের অন্তর্বর্তীকালীন স্বস্তি মিলেছে। অভিনেতা থেকে মুখ্যমন্ত্রী হওয়া বিজয়ের নেতৃত্বাধীন তামিলগা ভেট্রি কাজাগাম (টিভিকে) সরকারের পক্ষে করা আপিলের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট এই স্থগিতাদেশ দেন।

এর আগে, গত ২৭ মে মাদ্রাজ হাইকোর্টের বিচারপতি জি.আর. স্বামীনাথন এবং বিচারপতি ভি. লক্ষ্মীনারায়ণনের সমন্বয়ে গঠিত একটি ডিভিশন বেঞ্চ ১৯৭৬ সালের আগস্ট মাসের একটি সরকারি আদেশ কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। ওই রায়ে তামিলনাড়ুজুড়ে গরু জবাই কার্যত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়েছিল। হাইকোর্টের রায়ে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, দুগ্ধ উৎপাদন বৃদ্ধি, গবাদিপশু সংরক্ষণ এবং গ্রামীণ অর্থনীতির টেকসই উন্নয়নের স্বার্থে ১৯৭৬ সালের ওই সরকারি আদেশটি বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত প্রয়োজন। বিচারপতি স্বামীনাথন তাঁর রায়ে ভারতীয় সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে বলেন, গবাদিপশু ও দুগ্ধজাত পশু সংরক্ষণ করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। তিনি গণপরিষদের বিতর্কের প্রসঙ্গ টেনে দাবি করেন, ভারতীয় সভ্যতায় শ্রীকৃষ্ণের সময় থেকে গরুকে একটি পবিত্র ও শ্রদ্ধার প্রাণী হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে আসছে।

তবে হাইকোর্টের এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে আপিল জানায় তামিলনাড়ু সরকার। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয় যে, রাজ্যের বিদ্যমান আইনে নির্দিষ্ট শর্ত ও নির্দিষ্ট স্থানে নির্দিষ্ট শ্রেণির গবাদিপশু জবাইয়ের আইনি অনুমতি রয়েছে। ফলে বিদ্যমান আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো বিচারিক নির্দেশনার মাধ্যমে রাজ্যে গবাদিপশু জবাইয়ের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা যায় না। সরকার আদালতকে আরও অবগত করে যে, রাজ্যে প্রচলিত পশু সংরক্ষণ আইন এবং কসাইখানা-সংক্রান্ত বিধিমালায় পশু জবাইয়ের স্থান, পদ্ধতি ও শর্ত কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হলেও কোথাও সম্পূর্ণভাবে এটি নিষিদ্ধ করার বিধান নেই।

এদিকে হাইকোর্টের ওই রায়ের পর তামিলনাড়ুর সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকেও তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল। তাদের বক্তব্য ছিল, তামিলনাড়ুর মুসলিম সম্প্রদায় দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বিধিমালা মেনেই পবিত্র ঈদুল আজহায় ব্যক্তিগত আঙিনা বা ধর্মীয় স্থানে কোরবানি দিয়ে আসছে। একই সঙ্গে রাজ্যের বিভিন্ন হিন্দু মন্দিরেও বার্ষিক উৎসব উপলক্ষে ঐতিহ্যগতভাবে পশু বলির প্রাচীন প্রচলন রয়েছে। সামাজিক নেতাদের দাবি, এসব ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান শুধু লাইসেন্সপ্রাপ্ত কসাইখানার মধ্যে সীমাবদ্ধ করা বাস্তবসম্মত নয়, কারণ উৎসবের দিনগুলোতে বিপুলসংখ্যক পশু জবাইয়ের চাপ সামাল দেওয়ার মতো সক্ষমতা অধিকাংশ সরকারি কসাইখানার নেই। সুপ্রিম কোর্টের সর্বশেষ এই আদেশের ফলে আপাতত মাদ্রাজ হাইকোর্টের সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞাটি কার্যকর হচ্ছে না এবং মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তামিলনাড়ুতে বিদ্যমান আইন ও বিধিমালার আওতাতেই গবাদিপশু জবাই-সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালিত হবে।


অফিস: নিউ ইস্কাটন রোড, মগবাজার, ঢাকা-১০০০

ইমেইল : info@trendnewsbd.com