জিয়াউর রহমানই স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন, এটিই প্রকৃত সত্য: স্পিকার


অনলাইন ডেস্ক | ট্র্যান্ডনিউজবিডি , আপডেট করা হয়েছে : 11-07-2026

জিয়াউর রহমানই স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন, এটিই প্রকৃত সত্য: স্পিকার

মহান স্বাধীনতার ঘোষণা তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমানই দিয়েছিলেন এবং এটিই এ দেশের প্রকৃত সত্য বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস যদি তুলে ধরতে হয়, তবে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সশস্ত্র প্রতিরোধ, তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা এবং সাধারণ মানুষের গৌরবময় অংশগ্রহণের বিষয়গুলোকে ইতিহাসে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করতে হবে। আজ শনিবার রাজধানীর মহাখালীর রাওয়া কনভেনশন হলে ‘মুক্তিযুদ্ধে ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্ট: ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং বাংলাদেশের অভ্যুদয়’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্পিকার এসব কথা বলেন। এই আলোচনা সভার আয়োজন করে রিটায়ার্ড আর্মড ফোর্সেস অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (রাওয়া)।

ঐতিহাসিক মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ঐতিহাসিক ছয় দফার ভিত্তিতে এবং পাকিস্তানের সামগ্রিক রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মধ্যে থেকে পূর্ব পাকিস্তানের ন্যায্য অধিকার ও স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার দাবিতে। সেই সময়ে ‘স্বাধীনতা’ শব্দটি আনুষ্ঠানিকভাবে কখনোই উচ্চারিত হয়নি। ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ নিরীহ ও নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বর্বর হত্যাযজ্ঞ ও ক্র্যাকডাউনের পূর্ব মুহূর্তের বিবরণ দিয়ে স্পিকার বলেন, ‘ক্র্যাকডাউনের অব্যবহিত পূর্বে বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন সাহেব শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে গিয়ে বলেন, পাকিস্তান আক্রমণ করতে যাচ্ছে। দেশের মানুষ স্বাধীনতা চায়, এখনো সময় আছে আপনি স্বাধীনতা ঘোষণা করুন। শেখ মুজিব সাহেব বললেন যে না, আমি বিচ্ছিন্নতাবাদী হতে পারি না। পাকিস্তান ভাঙতে আমার কোনো অবদান থাকুক, এটি আমি চাই না। সুতরাং স্বাধীনতার ঘোষণা আমি দেব না। স্বাধীনতার ঘোষণা তিনি দেননি।’

খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ আরও বলেন, পাকিস্তানি বাহিনীর আকস্মিক হামলা, নির্মম গণহত্যা ও ভয়াবহ নির্যাতনের মুখে দিশেহারা জাতি যখন চরমভাবে বিপর্যস্ত, ঠিক তখনই সাহসিকতার সঙ্গে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেন, ‘এ সময় স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান, এটি হলো প্রকৃত সত্য। যে ঘোষণায় পুরো জাতি উদ্দীপ্ত হয়েছে, অনুপ্রাণিত হয়েছে। তাঁর সেই ঘোষণা শুনে হাজার হাজার ছাত্র–যুবক ঘরবাড়ি ও পরিবার ছেড়ে স্রেফ দেশের জন্য যুদ্ধ করতে ছুটে এসেছে।’ স্পিকার মন্তব্য করেন, সেদিন ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট যদি বিদ্রোহ ঘোষণা না করত, তবে এ দেশ এখনো হয়তো পাকিস্তানের অংশই থাকত। তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমাদের তো মাত্র পাঁচটা ব্যাটালিয়ন ছিল, চার হাজার সৈনিক। মুক্তিবাহিনী ছিল লাখের মতো। বাকিরা তো সাধারণ মানুষ, রিকশাওয়ালা, মুদিদোকানদার, বাসের হেলপার, ড্রাইভার, পিয়ন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং ছাত্র-যুবক। সকল পেশার মানুষ এসে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়েছে। এই যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এই গৌরবোজ্জ্বল কথা ইতিহাসে যথাযথভাবে নাই।’

মুক্তিযুদ্ধকে কোনো একক রাজনৈতিক শক্তির ফ্রেমে না বাঁধার আহ্বান জানিয়ে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘প্রকৃত তথ্য হলো একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ ছিল জনতার যুদ্ধ; একটি গোটা জাতির যুদ্ধ। এটি কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের একক যুদ্ধ নয়, বরং এটি ছিল বাঙালিদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার যুদ্ধ। এই যুদ্ধে বীরত্বের সঙ্গে লড়াই করেছে সাধারণ বাঙালি।’ সে জন্য তিনি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। মুক্তিযুদ্ধে সাধারণ মানুষের অভাবনীয় আত্মত্যাগের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালে যারা যুদ্ধ দেখেনি তারা দুর্ভাগা, আর যারা স্বচক্ষে দেখেছে, তারা সৌভাগ্যবান। বাঙালির আত্মত্যাগের সেই মহাকাব্যিক ইতিহাস ভবিষ্যতেও প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে জাতিকে গর্বিত করবে।’ নতুন প্রজন্মের কাছে সঠিক ইতিহাস পৌঁছে দেওয়ার তাগিদ দিয়ে তিনি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট, ইপিআর, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর বীরত্বগাথা সংরক্ষণের আহ্বান জানান এবং বলেন, ‘পৃথিবীর কোনো জাতির চেয়ে আমরা ছোট নই।’

রাওয়ার চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আবদুল হকের স্বাগত ও মূল বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর জেনারেল (অব.) জামিলউদ দীন আহসান, মেজর জেনারেল (অব.) জাহাংগীর কবির তালুকদার এবং নৌবাহিনীর কমডোর (অব.) জসিম উদ্দিন ভূঁইয়া। অনুষ্ঠানে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টকে উৎসর্গ করে নিজের লেখা একটি বিশেষ কবিতা পাঠ করেন কবি জাকির আবু জাফর। আলোচনা সভায় মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সাবেক সেনা কর্মকর্তা, দেশের বিশিষ্ট কবি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংস্কৃতিকর্মীরা অংশ নেন।


অফিস: নিউ ইস্কাটন রোড, মগবাজার, ঢাকা-১০০০

ইমেইল : info@trendnewsbd.com