ব্যক্তিগত গাড়ির চাপ কমাতে রাজধানীতে চালু হচ্ছে ‘যানজট শুল্ক’!


অনলাইন ডেস্ক | ট্র্যান্ডনিউজবিডি , আপডেট করা হয়েছে : 09-07-2026

ব্যক্তিগত গাড়ির চাপ কমাতে রাজধানীতে চালু হচ্ছে ‘যানজট শুল্ক’!

রাজধানীর তীব্র যানজট নিয়ন্ত্রণে আনতে সম্পূর্ণ নতুন ও আধুনিক এক কৌশল গ্রহণ করতে যাচ্ছে সরকার। ঢাকার সড়কগুলোতে ব্যক্তিগত গাড়ির মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে এবং গণপরিবহন সুবিধা উন্নত হওয়া নির্দিষ্ট করিডোরগুলোতে ‘কনজেশন চার্জ’ বা যানজট শুল্ক চালু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে দেশের যোগাযোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, যাতায়াতের জন্য আগে একটি শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য বিকল্প গণপরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত না করে এই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হলে তা কাঙ্ক্ষিত ফল দেবে না, উল্টো সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়িয়ে দেবে।

উন্নত বিশ্বের বিভিন্ন আধুনিক শহরের আদলে রাজধানী ঢাকাতেও এই যানজট শুল্ক চালুর প্রাথমিক পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, যেসব গুরুত্বপূর্ণ করিডোরে মেট্রোরেল, বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) এবং আধুনিক বাসসেবা সচল থাকবে, প্রধানত সেসব এলাকায় প্রবেশকারী প্রাইভেট কার, মোটরসাইকেল ও ট্রাকের ওপর সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ শুল্ক বা ফি আরোপ করা হবে। বিশ্বের বিভিন্ন মেগাসিটিতে ব্যস্ত সময়ে সড়কে ব্যক্তিগত গাড়ির চাপ কমাতে বহু বছর ধরেই এই কনজেশন চার্জ সফলভাবে চালু রয়েছে। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, সুইডেন ও সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন উন্নত দেশে নির্দিষ্ট যানজটপ্রবণ এলাকায় ব্যক্তিগত গাড়ি প্রবেশ করলেই স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির মাধ্যমে নির্ধারিত ফি কেটে নেওয়া হয়, যার ফলে ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমে এবং মানুষ গণপরিবহন ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ হয়।

তবে ঢাকার মতো একটি জনবহুল ও অপরিকল্পিত শহরে এই ব্যবস্থা চালু করা মোটেও সহজ হবে না বলে মনে করছেন দেশের যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, বিকল্প হিসেবে পর্যাপ্ত ও সময়ানুবর্তী গণপরিবহনের ব্যবস্থা নিশ্চিত না করে কেবল ব্যক্তিগত গাড়ির ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা চাপিয়ে দিলে চরম জনভোগান্তি তৈরি হতে পারে। এ ছাড়া এই প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন এবং প্রযুক্তিগত অবকাঠামো গড়ে তোলাও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এ বিষয়ে যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. হাদিউজ্জামান বলেন, মানুষের সামনে সবার আগে একটি কার্যকর ও নির্ভরযোগ্য বিকল্প যাতায়াত মাধ্যম থাকতে হবে। মেট্রোরেলসহ অন্যান্য গণপরিবহনের সক্ষমতা ও মান এমন পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে, যাতে ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহারকারীরা স্বাচ্ছন্দ্যে সেগুলো ব্যবহার করতে পারেন। তিনি একই সঙ্গে পণ্যবাহী ট্রাকের ওপর এই যানজট শুল্ক আরোপের প্রস্তাবকে ‘প্রহসন’ বলেও মন্তব্য করেন।

can অন্যদিকে, ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) দাবি করছে, রাজধানীকে একটি সুশৃঙ্খল ও যানজটমুক্ত নগরী হিসেবে গড়ে তোলার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই আধুনিক উদ্যোগটি নেওয়া tablecloth হচ্ছে। একই সঙ্গে ঢাকার সমন্বিত ও শক্তিশালী গণপরিবহন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার কাজও সমান্তরালভাবে চলবে। ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মসিউর রহমান এই বিষয়ে জানান, ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকাকে যানজটমুক্ত করতে একটি ২০ বছর মেয়াদি মহাপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। এমআরটি-১ থেকে শুরু করে এমআরটি-৬ পর্যন্ত চলমান মেট্রোরেল প্রকল্পগুলো সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন করার পর, বিশ্বের অন্যান্য উন্নত দেশের মতো নির্দিষ্ট কিছু করিডোরে ডিজিটাল পদ্ধতিতে এই যানজট শুল্ক আদায় শুরু করা হবে। তবে কোন করিডোরে ঠিক কত টাকা শুল্ক বা ফি নির্ধারণ করা হবে, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। প্রয়োজনীয় অর্থায়ন ও প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে উঠতে পারলে রাজধানীর যানজট নিয়ন্ত্রণে এই কনজেশন চার্জ ব্যবস্থা কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে ডিটিসিএ।


অফিস: নিউ ইস্কাটন রোড, মগবাজার, ঢাকা-১০০০

ইমেইল : info@trendnewsbd.com