পরিসংখ্যান বা অতীত ইতিহাস মোটেও তাদের পক্ষে কথা বলছে না। ফুটবলের বিশ্বমঞ্চে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত ৭টি ম্যাচ খেলে একটিতেও জয়ের মুখ দেখতে পারেনি সুইজারল্যান্ড। তবে এই বিবর্ণ অতীত সত্ত্বেও একটুও আত্মবিশ্বাস হারাচ্ছে না সুইস শিবির। বরং চলমান বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে লিওনেল মেসিদের হারানোর স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়ে রাখলেন সুইজারল্যান্ডের প্রধান কোচ মুরাত ইয়াকিন। কলম্বিয়াকে হারিয়ে শেষ আটের টিকিট নিশ্চিত করার পর এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি জানান, বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিরুদ্ধে খেলতে নামা তাদের জন্য একটি অসাধারণ সুযোগ। তবে আর্জেন্টিনা কোনোভাবেই অজেয় নয় এবং তাঁরা অবশ্যই আর্জেন্টিনাকে হারানোর লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবেন। দক্ষিণ আমেরিকার দলগুলোর খেলার ধরন ও কৌশল সম্পর্কে তারা খুব ভালোভাবেই অবগত আছেন বলে মুরাত ইয়াকিন উল্লেখ করেন।
আর্জেন্টিকার সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে হারতে হারতে কষ্টার্জিত জয় পাওয়ার পারফরম্যান্সই হয়তো সুইজারল্যান্ডকে এই বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে। কারণ নকআউট পর্বের সর্বশেষ দুটি ম্যাচেই তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বেশ কষ্ট করে জয় ছিনিয়ে নিতে হয়েছে। তবে আর্জেন্টিনার এই নড়বড়ে অবস্থার চেয়েও বড় প্রেরণা হচ্ছে সুইজারল্যান্ডের নিজেদের মাঠের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স। সর্বশেষ টানা ৫টি বিশ্বকাপে অংশ নিলেও এর আগে কখনো কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার সুযোগ পায়নি সুইজারল্যান্ড। সুইসদের শেষ আটের ইতিহাস খুঁজতে হলে দীর্ঘ ৭২ বছর পেছনে ফিরে তাকাতে হবে, কারণ তারা সর্বশেষ ১৯৫৪ সালের বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল। দীর্ঘদিনের সেই খরা এবার মাঠের অনবদ্য পারফরম্যান্স দিয়ে কাটিয়েছে তারা। বর্তমানে ফিফা র্যাংকিংয়ের ১৯ নম্বর অবস্থানে থাকা দলটি টানা পাঁচ ম্যাচে অপরাজিত রয়েছে।
কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার এই ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ জয়টি এসেছে আজ সকালে কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় শেষে ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র থাকায় খেলা টাইব্রেকারে গড়ায়, যেখানে কলম্বিয়াকে ৪-৩ ব্যবধানে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয় সুইজারল্যান্ড। অবশ্য প্রতিপক্ষকে হারানোর হুংকার দিলেও আর্জেন্টিনার প্রতি যথেষ্ট সমীহ ঝরে পড়েছে সুইস কোচের কণ্ঠে। মুরাত ইয়াকিন বলেন, আর্জেন্টিনা দুর্দান্ত এক দল এবং তাদের দলে বেশ কিছু অসাধারণ খেলোয়াড়ের পাশাপাশি একজন ভালো কোচও আছেন। বিশেষ করে তাদের দলে আছেন বিশ্বের সেরা ফুটবলার লিওনেল মেসি। তবে প্রতিপক্ষের শক্তিমত্তা জানা সত্ত্বেও তারা জানেন যে আর্জেন্টিনা ঠিক কীভাবে খেলে এবং সেই অনুযায়ী তাঁরা মাঠে নিজেদের সেরাটা দিতে প্রস্তুত।