ধর্ষণের মামলার সংখ্যা ‘একটু বেশি’: কারণ জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ


সংসদ প্রতিবেদক | ট্র্যান্ডনিউজবিডি , আপডেট করা হয়েছে : 30-06-2026

ধর্ষণের মামলার সংখ্যা ‘একটু বেশি’: কারণ জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

দেশে ধর্ষণের মামলা ‘একটু বেশি’ বা বৃদ্ধি পাওয়ার প্রকৃত কারণ জাতীয় সংসদে ব্যাখ্যা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, অতীতে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে ভুক্তভোগীরা লোকলজ্জা বা ভয়ের কারণে মামলা করতে থানায় যেতেন না কিংবা যেতে পারতেন না। কিন্তু বর্তমান সরকারের সময়ে থানায় গেলেই কোনো প্রকার বাধা ছাড়া মামলা রেকর্ড করা হয়। এমনকি ভুক্তভোগীরা এখন অনলাইনেই সাধারণ ডায়েরি (জিডি) কিংবা এজাহার (এফআইআর) দায়ের করতে পারছেন। এই প্রক্রিয়ায় এখন আর কোনো ধরনের সামাজিক বা রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ নেই। আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি মঞ্জুরি ও ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই সব কথা বলেন।

এর আগে, সংসদের স্বতন্ত্র সদস্য (এমপি) রুমিন ফারহানা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মঞ্জুরি ও ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে সাম্প্রতিক দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির নানা পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত মার্চ ও এপ্রিল মাসের অপরাধের খতিয়ান ও পরিসংখ্যান উল্লেখ করে রুমিন ফারহানা বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য সংসদে সবাই অত্যন্ত মুগ্ধ হয়ে শোনেন। তবে এই মুগ্ধতা যদি কথার বাইরে কাজের মাধ্যমে পুরো মন্ত্রণালয়ে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হতো, তাহলে তিনি আজকে এই ছাঁটাই প্রস্তাব সংসদে আনতেন না। স্বতন্ত্র নারী সংসদ সদস্যের এই বক্তব্যের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এর আগেও তিনি জাতীয় সংসদে দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির বিষয়টি সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্ত বা ডাটাসহ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছেন, যেখানে খুন, ধর্ষণ, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং ডাকাতির মাসওয়ারি হিসাব দেওয়া হয়েছিল।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বর্তমান সরকার রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব গ্রহণ করার পর থেকে এখন পর্যন্ত দেশের সব খোত্তর বা ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে। শুধু ধর্ষণের মামলার সংখ্যার দিক থেকে কিছুটা ভিন্ন চিত্র পরিলক্ষিত হচ্ছে। এর নেপথ্যের কারণ ব্যাখ্যা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ধর্ষণের কেস রেকর্ডের ক্ষেত্রে আমরা একটু বেশি ধর্ষণের চিত্র পেয়েছি। তার একটি সুনির্দিষ্ট কারণ আছে; আগে ভুক্তভোগীরা সামাজিক বা রাজনৈতিক বিভিন্নমুখী হস্তক্ষেপের কারণে থানায় রেকর্ড করতে যেত না বা রেকর্ড করতে পারত না। এখন থানায় গেলেই অথবা ঘরে বসে অনলাইনেই জিডিসহ অন্যান্য অভিযোগ দায়ের করতে পারেন, এফআইআর দাখিল করতে পারেন। এখানে কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ বা প্রভাব খাটানোর সুযোগ নেই, যার কারণে মামলার এই নম্বর বা সংখ্যাটা আগের চেয়ে একটু বৃদ্ধি পেয়েছে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, মামলার সংখ্যা বাড়লেও ধর্ষণ যেখানেই হোক না কেন—অপরাধীকে গ্রেপ্তার, দ্রুত চার্জশিট প্রদান, আদালতে সাক্ষী উপস্থাপনসহ বিচারের সব ক্ষেত্রে একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছে সরকার। উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, রাজধানীর পল্লবীর শিশু হত্যার বিচার মাত্র ১৫ থেকে ১৭ দিনের মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে, যা বাংলাদেশের বিচারিক ইতিহাসে একটি অনন্য রেকর্ড। এ ছাড়া বহুল আলোচিত তনু হত্যার আসামিদেরও ডিএনএ প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে সুনির্দিষ্টভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দলীয় কোনো পরিচয় বিবেচনা করে কাউকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না; অপরাধীকে কেবল অপরাধী হিসেবেই দেখা হচ্ছে। এমনকি বিরোধী দলের কোনো নেতা-কর্মী অপরাধে জড়িত থাকলে সংশ্লিষ্ট দলও তাঁর বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির টেকসই উন্নয়নে রাজনৈতিক পরিচয়কে বিন্দুমাত্র গুরুত্ব দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘মামলা রেকর্ডের এই একটি ক্ষেত্র ছাড়া বাকি সব ক্ষেত্রে আমরা দৃশ্যমান ও ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সম্পূর্ণ সক্ষম হয়েছি।’ তবে কেবল পুলিশ বা প্রশাসনের একক প্রচেষ্টা নয়, জনগণের সক্রিয় সহযোগিতা ছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নয়ন পুরোপুরি সম্ভব নয় উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এই সামাজিক অপরাধগুলো দমনে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার পাশাপাশি ব্যাপক সামাজিক সচেতনতা তৈরি এবং রাজনৈতিক দলগুলোর ইতিবাচক ভূমিকা অত্যন্ত প্রয়োজন।


অফিস: নিউ ইস্কাটন রোড, মগবাজার, ঢাকা-১০০০

ইমেইল : info@trendnewsbd.com