লস অ্যাঞ্জেলেসের ড্রেসিংরুমে শান্তি ও সম্প্রীতির চিঠি রেখে গেল ইরান ফুটবল দল


ক্রীড়া প্রতিবেদক | ট্র্যান্ডনিউজবিডি , আপডেট করা হয়েছে : 22-06-2026

লস অ্যাঞ্জেলেসের ড্রেসিংরুমে শান্তি ও সম্প্রীতির চিঠি রেখে গেল ইরান ফুটবল দল

চলমান বৈশ্বিক সংকটের মধ্যেও ফুটবলীয় মঞ্চে শান্তি ও সৌহার্দ্যের এক অনন্য বার্তা দিল ইরান ফুটবল দল। বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচ শেষ করার পর লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামের ড্রেসিংরুমে সবার উদ্দেশে একটি আবেগঘন চিঠি রেখে গেছে তারা। চিঠিতে তারা লিখেছে, ‘বিশ্বের সব জাতির মধ্যে শান্তি, সম্মান ও বন্ধুত্ব বজায় থাকুক’। বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের দীর্ঘদিনের যুদ্ধাবস্থা এবং তা অবসানে যখন দুই দেশের কূটনৈতিক স্তরে আলোচনা চলছে, ঠিক তখনই মাঠের ড্রেসিংরুম থেকে এমন সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিলেন ইরানি ফুটবলাররা।

ইরান ফুটবল ফেডারেশনের পক্ষ থেকে প্রকাশ করা ওই চিঠিতে নিজেদের ঐতিহ্য ও মর্যাদার কথা তুলে ধরে লেখা হয়েছে, ‘হাজার বছরের প্রাচীন পারস্য থেকে আজকের আধুনিক ইরান—ইরানের চেতনা চিরকাল প্রাণবন্ত ও অবিচল। আমরা লস অ্যাঞ্জেলেসে অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে এসেছি, সম্মানের সঙ্গে লড়াই করেছি এবং মর্যাদা নিয়ে ফিরে যাচ্ছি’। চলতি বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম দুটি ম্যাচই লস অ্যাঞ্জেলেসে খেলেছে ইরান এবং নিউজিল্যান্ড ও বেলজিয়ামের বিপক্ষে দুটি ম্যাচেই তারা ড্র করতে সমর্থ হয়েছে। গ্রুপ পর্বে তাদের পরবর্তী ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে সিয়াটলে, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ মিসর। চিঠিতে লস অ্যাঞ্জেলেসের চমৎকার আতিথেয়তার জন্য ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি ইরানি সমর্থকদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার প্রথম দিনে মিনাব অঞ্চলের একটি মেয়েদের স্কুলে হওয়া ভয়াবহ হামলার ঘটনাটিও চিঠিতে স্মরণ করা হয়, যে নির্মম হামলায় অন্তত ১৬৮ জন নিরীহ প্রাণ হারিয়েছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধাবস্থার কারণে এবারের বিশ্বকাপের শুরু থেকেই মাঠের বাইরে নানা রকম প্রশাসনিক ও লজিস্টিক জটিলতায় ভুগতে হচ্ছে ইরান দলকে। শুরুতে ইরানের মূল অনুশীলন ক্যাম্পটি যুক্তরাষ্ট্রে হওয়ার কথা থাকলেও পরিস্থিতির কারণে সেটি পরিবর্তন করে মেক্সিকোতে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রথম দিকে পরিকল্পনা ছিল যে, প্রতিটি ম্যাচের দুই দিন আগে ইরান দল যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করবে এবং ম্যাচের পরদিন ফিরে যাবে। তবে পরে ফিফার পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইরানকে কেবল যুক্তরাষ্ট্রে দিনে এসে দিনেই ফিরে যেতে হবে। এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তের পর তীব্র সমালোচনার মুখে ফিফা পুনরায় জানায় যে, ম্যাচের আগের দিন এসে ম্যাচ শেষে আবার দ্রুত চলে যেতে হবে ইরান দলকে।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচটি খেলার পরপরই তাৎক্ষণিকভাবে মেক্সিকোয় চলে যাওয়ার নির্দেশ পাওয়ায় গণমাধ্যমের সামনে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন ইরানের প্রধান কোচ আমির গালেনোই। তিনি আক্ষেপ করে বলেছিলেন, ‘আমার মনে হয়, পুরো বিশ্বকাপের মধ্যে সম্ভবত আমরাই সবচেয়ে বেশি নিপীড়িত দল’। একইভাবে বেলজিয়াম ম্যাচের পরও পরদিনই যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে বাধ্য হয়েছে ইরানি দলটি। তবে বিশ্বকাপ নিয়ে গঠিত হোয়াইট হাউস টাস্ক ফোর্সের নির্বাহী পরিচালক অ্যান্ড্রু জুলিয়ানি জানিয়েছেন, তৃতীয় ম্যাচের আগে ইরানের এই কঠোর ভ্রমণসীমা নিয়ে নতুন করে আলোচনা করা হবে।


অফিস: নিউ ইস্কাটন রোড, মগবাজার, ঢাকা-১০০০

ইমেইল : info@trendnewsbd.com