‘সুস্থ-সুন্দর সমাজ গঠনে খেলাধুলার বিকল্প নেই’: যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক


অনলাইন ডেস্ক | ট্র্যান্ডনিউজবিডি , আপডেট করা হয়েছে : 23-05-2026

‘সুস্থ-সুন্দর সমাজ গঠনে খেলাধুলার বিকল্প নেই’: যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক

দেশের সামগ্রিক ক্রীড়াঙ্গনের মানোন্নয়ন এবং বিশ্বমঞ্চে ‘স্পোর্টস ডিপ্লোম্যাসি’ বা ক্রীড়া কূটনীতিকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে বর্তমান সরকার অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। আজ শনিবার (২৩ মে) সকালে রাজধানীর মনোরম হাতিরঝিল অ্যাম্ফিথিয়েটারে আয়োজিত আন্তর্জাতিক হাফ ম্যারাথন “ওয়ান রান”-এর সমাপনী ও বর্ণাঢ্য পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। দেশ-বিদেশের প্রায় এক হাজার পেশাদার ও অপেশাদার অ্যাথলেটের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে মুখরিত এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের বর্তমান যুব আইকন ও বিশিষ্ট স্পোর্টস প্যাট্রন ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।

ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের বর্তমান আধুনিক রূপান্তর ও চলমান অগ্রযাত্রার চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেশের যুবসমাজকে মাঠমুখী করা এবং খেলাধুলাকে একটি শক্তিশালী সামাজিক মাধ্যম হিসেবে গড়ে তোলাই এই সরকারের মূল লক্ষ্য। এই আধুনিকায়নের পেছনে মূল রূপকার ও অনুপ্রেরণা হিসেবে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তাঁর সুযোগ্য কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। ম্যারাথনের মূল স্লোগান ‘ওয়ান রান, ওয়ান গোল অ্যান্ড ওয়ান ওয়ার্ল্ড’-এর গভীর তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, একটি সুস্থ, মাদক মুক্ত ও সুন্দর সমাজ গঠনে খেলাধুলার কোনো বিকল্প হতে পারে না। যদি পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে একটি সর্বজনীন এবং সবার জন্য উন্মুক্ত খেলাধুলার পরিবেশ তৈরি করা যায়, তবে তা পুরো সমাজের গুণগত পরিবর্তনে এক অভাবনীয় ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান তাঁর স্বভাবসুলভ মানবিক ও জেন-জি সুলভ দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেশের যুবসমাজ ও সাধারণ মানুষকে ফিট থাকার আহ্বান জানান। তিনি সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন পর্যটন ও বৈচিত্র্যময় অঞ্চল যেমন—বান্দরবান, কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে সফলভাবে আয়োজিত বিভিন্ন ‘রান’ বা দৌড় প্রতিযোগিতার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, এই ধরনের সুস্থ ধারার আয়োজন সাধারণ মানুষকে যান্ত্রিক জীবনের বাইরে এসে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ ও ফিট থাকতে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করে। নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি অত্যন্ত আনন্দের সাথে ঘোষণা করেন যে, আগামীতে এই ধরনের কোনো বড় আয়োজনে তিনি নিজেও একজন সাধারণ প্রতিযোগী হিসেবে সবার সাথে ট্র্যাকে নামার ও দৌড়ানোর তীব্র ইচ্ছা পোষণ করেন।

একটি বৈষম্যহীন ও মানবিক সমাজ বিনির্মাণের ওপর জোর দিয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান আরও বলেন, সুস্থ সমাজ গঠন কেবল তরুণ বা যুবকদের একার দায়িত্ব নয়, এতে নারী-পুরুষ এবং সমাজের সব ধরনের শারীরিক সামর্থ্যের মানুষের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পিছিয়ে পড়া বা ভিন্নভাবে সক্ষম মানুষদের মূলধারার ক্রীড়াঙ্গনে সম্পৃক্ত করতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি এই ম্যারাথনে অংশ নেওয়া ৭৪ বছর বয়সী এক প্রবীণ অ্যাম্বাসেডরের জীবনের অবিশ্বাস্য ও অনুপ্রেরণামূলক গল্প উপস্থিত সবার সামনে তুলে ধরেন। এই বৃদ্ধ বয়সেও তাঁর তারুণ্যদীপ্ত উদ্যমকে স্যালুট জানিয়ে জাইমা রহমান দেশের যুবসমাজকে ‘জীবনকে ভালোবাসুন, ফিট থাকুন’—এই মূলমন্ত্রকে বুকে ধারণ করে একটি ইতিবাচক জীবন গড়ে তোলার দীক্ষা দেন। অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা দেশি-বিদেশি বিজয়ী অ্যাথলেটদের হাতে সম্মাননা স্মারক ও পুরস্কার তুলে দেন।


অফিস: নিউ ইস্কাটন রোড, মগবাজার, ঢাকা-১০০০

ইমেইল : info@trendnewsbd.com