অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সীমান্তে ‘স্মার্ট বর্ডার’ গড়ছে ভারত !


আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ট্র্যান্ডনিউজবিডি , আপডেট করা হয়েছে : 23-05-2026

অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সীমান্তে ‘স্মার্ট বর্ডার’ গড়ছে ভারত !

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সাথে থাকা আন্তর্জাতিক সীমান্তে অনুপ্রবেশ, চোরাচালান ও যেকোনো ধরনের সীমান্ত অপরাধ সম্পূর্ণ শূন্যে নামিয়ে আনতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে ভারত সরকার। দুই দেশের সীমান্তজুড়ে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ‘স্মার্ট বর্ডার’ প্রকল্প চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ড্রোনের আকাশসীমা নজরদারি, শক্তিশালী রাডার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন (AI) স্মার্ট ক্যামেরা এবং উন্নত সেন্সর ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রায় ৬ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তকে একটি দুর্ভেদ্য নিরাপত্তা বলয়ের আওতায় আনা হবে। গতকাল শুক্রবার (২২ মে) নয়াদিল্লিতে ভারতের সীমান্তরক্ষা বাহিনী বিএসএফের (BSF) একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নয়াদিল্লির এই অনুষ্ঠানে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে আধুনিক প্রযুক্তির সব উপাদানকে একক নেটওয়ার্কে যুক্ত করে সীমান্ত নিরাপত্তার একটি সমন্বিত ও যুগোপযোগী ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিএসএফকে সমস্ত ধরনের প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করবে। ভারতের সীমান্ত পাহারা দেওয়ার কাজটি দিন দিন আরও জটিল হয়ে উঠছে উল্লেখ করে তিনি জানান, ড্রোন ও রাডারের সমন্বয়ে গঠিত এই স্মার্ট বর্ডার ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর হলে বিএসএফের মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম আরও সহজ, নির্ভুল এবং বহুগুণ শক্তিশালী হবে।

১৯৬৫ সালে গঠিত হওয়া প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার সদস্যের বিশাল বিএসএফ বাহিনী ভারতের পশ্চিমে পাকিস্তান এবং পূর্বে বাংলাদেশের সীমান্ত পাহারার দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছে। ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সীমান্তকে অত্যন্ত ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ ও ‘উদ্বেগের কারণ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন অমিত শাহ। তাঁর মতে, সনাতন বা প্রচলিত সীমান্ত পাহারা পদ্ধতির মাধ্যমে বর্তমান যুগের বহুমুখী হুমকি মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। বর্তমানে এই দুই সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ ছাড়াও মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান, সীমান্তপারে ড্রোনের মাধ্যমে অস্ত্র সরবরাহ, গবাদিপশু পাচার, জাল রুপি চক্রের সক্রিয়তা এবং সুসংগঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধের মতো বড় ধরনের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

ভবিষ্যতের সম্ভাব্য জাতীয় নিরাপত্তা হুমকিগুলো আগে থেকেই শনাক্ত করার ওপর জোর দিয়ে অমিত শাহ বলেন, সীমান্ত গলে অনুপ্রবেশের মাধ্যমে ভারতের অভ্যন্তরে এক ধরনের কৃত্রিম জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের (Demographic Change) অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে, যা কঠোরভাবে দমন করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার কেবল সীমান্ত সিল করতেই বদ্ধপরিকর নয়, বরং দেশের অভ্যন্তরে থাকা প্রতিটি অবৈধ অনুপ্রবেশকারীকে নিখুঁতভাবে শনাক্ত করে বহিষ্কারের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই লক্ষ্য অর্জনে এখন কেবল বিএসএফ নয়, বরং রাজ্য পুলিশ, কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনী, সেনাবাহিনী, মাদক নিয়ন্ত্রণ ব্যুরো (NCB), কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এবং রাজ্য প্রশাসনের মধ্যে একটি সমন্বিত ও তাৎক্ষণিক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী রাজ্য ত্রিপুরা, আসাম এবং পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারগুলো অনুপ্রবেশ ঠেকাতে আন্তরিকভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ উল্লেখ করে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় খুব শিগগিরই এই রাজ্যগুলোর মুখ্যমন্ত্রীদের সাথে একটি উচ্চপর্যায়ের সমন্বয় বৈঠকে বসবেন বলে মন্ত্রী জানান।


অফিস: নিউ ইস্কাটন রোড, মগবাজার, ঢাকা-১০০০

ইমেইল : info@trendnewsbd.com