কেরানীগঞ্জে বাসস্ট্যান্ড নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ


অনলাইন ডেস্ক | ট্র্যান্ডনিউজবিডি , আপডেট করা হয়েছে : 07-05-2026

কেরানীগঞ্জে বাসস্ট্যান্ড নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ

ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের তেঘরিয়া বাসস্ট্যান্ডে আধিপত্য বিস্তার ও নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (৬ মে) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে শুরু হওয়া এ সংঘর্ষে অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ঢাকা জেলা দক্ষিণ ছাত্রদলের এক প্রভাবশালী নেতার অনুসারীদের সঙ্গে স্থানীয় বিএনপি নেতা রিফাত মোল্লার সমর্থকদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই বুধবার উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং চার থেকে পাঁচটি হাতবোমার বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন আবদুল মালেক গাজী, শাহীন মিয়া, সাজ্জাদ হোসেন ও মাহমুদ হাসান। এর মধ্যে শাহীন মিয়াকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তাঁকে কেরানীগঞ্জের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদিকে সাজ্জাদ হোসেনের চোখে গুরুতর আঘাত লাগে।

আহত আবদুল মালেক গাজীর অভিযোগ, ৫ আগস্টের পর থেকে তেঘরিয়া বাসস্ট্যান্ড একটি ছাত্রদল নেতার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সেখানে চাঁদাবাজি চলছে। তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগ আমলের লোকজনকে সঙ্গে নিয়েই বাসস্ট্যান্ডে প্রভাব বিস্তার করা হচ্ছে।

এদিকে দক্ষিণবঙ্গ বাস কাউন্টারের ম্যানেজার বিশাল হোসেন বলেন, রিফাত মোল্লার অনুসারীরা প্রতিদিন বাসস্ট্যান্ডে এসে যাত্রীদের হয়রানি করে। বুধবার বিকেলে এ নিয়ে উত্তেজনার সৃষ্টি হলে কাউন্টারের লোকজন তাদের ধাওয়া দেয় এবং পরে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনার পর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা বিএনপির সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী বাসস্ট্যান্ড পরিদর্শনে যান। তিনি বলেন, বাসস্ট্যান্ডে চাঁদাবাজি বন্ধে পুলিশকে আগেই ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, রিফাত মোল্লার নেতৃত্বে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “কেরানীগঞ্জে কোনো চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীর জায়গা হবে না।” একই সঙ্গে পুলিশকে দ্রুত মামলা নিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

অন্যদিকে বিএনপি নেতা রিফাত মোল্লা অভিযোগ করে বলেন, তাঁর লোকজনের ওপর হামলা চালিয়েছে “চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীরা”। থানায় অভিযোগ করতে গেলে তাঁর ওপরও হামলা করা হয় বলে দাবি করেন তিনি। এ ঘটনার পেছনে ছাত্রদলের এক নেতার ভূমিকা রয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন রিফাত। তিনি বলেন, তাঁর পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এবং রাজনৈতিক মামলায় কারাভোগও করেছেন।

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, তেঘরিয়া বাসস্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ ছিল। বুধবার বিকেলে সেই বিরোধ সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।


অফিস: নিউ ইস্কাটন রোড, মগবাজার, ঢাকা-১০০০

ইমেইল : info@trendnewsbd.com