মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝে নতুন এক সমীকরণ তৈরি করে ইরানের পাশে দাঁড়িয়েছে ক্রেমলিন। একটি চাঞ্চল্যকর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, রাশিয়া আজ মঙ্গলবার ইরানকে তাদের বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এস-৪০০ (S-400 Triumphal)-এর প্রথম চালান সফলভাবে সরবরাহ করেছে। এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের সামরিক নীতিনির্ধারকদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
এস-৪০০ হলো রাশিয়ার তৈরি একটি অত্যাধুনিক সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল সিস্টেম, যা ৪০০ কিলোমিটার দূর থেকেই শত্রুর বিমান, ড্রোন এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত ও ধ্বংস করতে সক্ষম। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানের আকাশসীমায় এই সিস্টেম মোতায়েন হওয়ার অর্থ হলো ইসরায়েলের অত্যাধুনিক এফ-৩৫ (F-35) স্টিলথ ফাইটার জেটের পক্ষেও ইরানে হামলা চালানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়বে।
রাশিয়ার এই সরবরাহের বিষয়ে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, ইরানের সাথে রাশিয়ার দীর্ঘমেয়াদী সামরিক সহযোগিতা চুক্তি রয়েছে এবং মস্কো সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে বদ্ধপরিকর। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এটি একটি সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং এর উদ্দেশ্য কেবল ইরানের আকাশসীমা সুরক্ষিত রাখা, কোনো দেশে আক্রমণ করা নয়।
রাশিয়ার এই সামরিক সাহায্যের খবরে হোয়াইট হাউস থেকে কড়া প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর এক বিবৃতিতে বলেছে, এই সরবরাহ মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ভারসাম্য নষ্ট করবে এবং ইরানকে আরও আগ্রাসী করে তুলবে। অন্যদিকে, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF) জানিয়েছে, তারা এই পরিস্থিতির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছে এবং যেকোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ব্যুহ ভেদ করার সক্ষমতা তাদের রয়েছে।
ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকে রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে সামরিক সম্পর্ক অনেক গভীর হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র যখন ইসরায়েলকে সহায়তা করছে, তখন রাশিয়া ইরানকে এই শক্তিশালী অস্ত্র দিয়ে পরোক্ষভাবে পশ্চিমাদের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে একটি নতুন ‘কোল্ড ওয়ার’ বা স্নায়ুযুদ্ধের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।