দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে পারমাণবিক শক্তির অভিজাত ক্লাবে বাংলাদেশের অবস্থান এখন সুসংহত। পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের (আরএনপিপি) ১ নম্বর ইউনিটে আজ মঙ্গলবার সফলভাবে পারমাণবিক জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) লোডিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার সূচনার মাধ্যমে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের 'চূড়ান্ত কাউন্টডাউন' বা ক্ষণগণনা শুরু করল।
সংশ্লিষ্ট প্রকল্প কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই ফ্যুয়েল লোডিং বা জ্বালানি স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হওয়ার অর্থ হলো বিদ্যুৎকেন্দ্রটির ১ নম্বর ইউনিট এখন বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য কারিগরিভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং উচ্চ প্রযুক্তির এই কার্যক্রমটি আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA) এবং রাশিয়ার কারিগরি বিশেষজ্ঞদের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন করা হয়েছে। রাশিয়া ও বাংলাদেশের যৌথ তদারকিতে এই স্পর্শকাতর অপারেশনটি সফলভাবে সম্পন্ন করার মধ্য দিয়ে প্রকল্পটির বড় একটি ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করল বাংলাদেশ।
পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের এই মাইলফলক অর্জনের ফলে বাংলাদেশ বিশ্বের ৩৩তম পারমাণবিক শক্তি উৎপাদনকারী দেশের গৌরবময় মর্যাদা লাভ করতে যাচ্ছে। বর্তমান বিশ্বে মাত্র ৩২টি দেশে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে, যেখানে আজ বাংলাদেশ নিজের নাম যুক্ত করল। এই অর্জন কেবল জ্বালানি খাতের উন্নয়ন নয়, বরং বৈশ্বিক রাজনীতি ও প্রযুক্তিতে বাংলাদেশের সক্ষমতার এক বড় পরিচয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১ নম্বর ইউনিট থেকে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। এই ইউনিটে জ্বালানি স্থাপনের পর বিভিন্ন স্তরের কারিগরি পরীক্ষা শেষে চলতি বছরের শেষভাগ বা আগামী বছরের শুরুতে এটি পূর্ণ উৎপাদনে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রকল্পের ২ নম্বর ইউনিটের কাজও দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হলে দেশে দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। এটি গ্রিন হাউস গ্যাস নির্গমন কমিয়ে পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ভূমিকা রাখবে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি করপোরেশন 'রসাটম' এই প্রকল্পে বাংলাদেশের প্রধান অংশীদার হিসেবে কাজ করছে এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।