প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে আইসিটি খাতের সকল অংশীজনদের সম্মিলিত মেধা ও চিন্তাশক্তি প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, সৃজনশীল চিন্তা ও প্রযুক্তিগত জ্ঞানের সমষ্টিগত চর্চাই একটি জাতির শ্রেষ্ঠ সম্পদে পরিণত হয়।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাতে রাজধানীর বনানী ক্লাবে বাংলাদেশ আইসিটি স্টেকহোল্ডারস অ্যালায়েন্স (বিআইএসএ) আয়োজিত এক নীতি সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন। ‘বাংলাদেশের ডিজিটাল ভবিষ্যৎ গঠন: টেলিকম, ডেটা ও সাইবার নিরাপত্তা বিল ২০২৬’ শীর্ষক এই সংলাপে সরকারের ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিগত পরিকল্পনার নানা দিক উঠে আসে।
বর্তমান বিশ্বের কৌশলগত প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, এখন যুদ্ধের কারণ কেবল জ্বালানি তেল নয়, বরং প্রযুক্তিগত সক্ষমতাই শক্তির প্রধান উৎস। তাঁর বক্তব্যের মূল পয়েন্টগুলো হলো:
কৌশলগত উপাদান: সেমিকন্ডাক্টর ও বিরল খনিজ সম্পদ এখন বৈশ্বিক সভ্যতার প্রধান উপাদানে পরিণত হয়েছে।
বৈশ্বিক প্রভাব: বিশ্বের প্রভাবশালী ১০০ নেতার তালিকায় সেমিকন্ডাক্টর কোম্পানির প্রধানের স্থান পাওয়া প্রমাণ করে যে প্রযুক্তির শক্তি এখন সীমানা ছাড়িয়ে গেছে।
আইসিটি খাতের বিশেষজ্ঞদের প্রতি বিশেষ দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ডিজিটাল সভ্যতার জটিল উন্নয়নগুলো সাধারণ মানুষের চেয়ে বিশেষজ্ঞরা ভালো বোঝেন। তাই নীতিনির্ধারকদের সঠিক দিশা দেখাতে তাদের জ্ঞান ও উদ্ভাবনী আইডিয়া অত্যন্ত প্রয়োজন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিআইএসএ এমন একটি মঞ্চ হবে যেখানে বিনিয়োগকারী এবং বিশেষজ্ঞরা দেশের ডিজিটাল সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কাজ করবেন।
সংলাপে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান। এছাড়াও অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এ এ এম সালেহ (সালেহ শিবলী) সহ তথ্য-প্রযুক্তি খাতের বিশিষ্ট উদ্যোক্তা ও আইন বিশেষজ্ঞরা বক্তব্য রাখেন।