তনু হত্যা মামলা: রিমান্ড শেষে আদালতে হাফিজুর, কঠোর নিরাপত্তায় পাঠানো হলো কারাগারে


অনলাইন ডেস্ক | ট্র্যান্ডনিউজবিডি , আপডেট করা হয়েছে : 25-04-2026

তনু হত্যা মামলা: রিমান্ড শেষে আদালতে হাফিজুর, কঠোর নিরাপত্তায় পাঠানো হলো কারাগারে

সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় গ্রেফতার হওয়া সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে তিন দিনের রিমান্ড শেষে আজ কুমিল্লার আদালতে হাজির করা হয়। কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে দুপুর দুইটার দিকে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল আমানের আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলার তদন্ত সংস্থা পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) জানিয়েছে, রিমান্ডে তাঁর কাছ থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।

কড়া নিরাপত্তা ও লুকোচুরির দৃশ্য

শনিবার দুপুর একটার দিকে ঢাকা থেকে একটি মাইক্রোবাসে করে হাফিজুর রহমানকে কুমিল্লা আদালত প্রাঙ্গণে আনা হয়। পিবিআই সদস্যদের বেষ্টনীতে অত্যন্ত গোপনীয়তা ও কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাঁকে এজলাসে নেওয়া হয়। গণমাধ্যমকর্মীরা ছবি তোলার চেষ্টা করলেও হাফিজুর মাস্ক পরে এবং গাড়ির ভেতরে নিচু হয়ে নিজেকে আড়ালের চেষ্টা করেন। আদালত থেকে বের করার পর ২টা ২০ মিনিটের দিকে তাঁকে সরাসরি কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

তদন্তের অগ্রগতি ও ডিএনএ রহস্য

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআই পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম জানান, গত তিন দিন হাফিজুর রহমানকে ঢাকার কল্যাণপুরে পিবিআইয়ের বিশেষ ইউনিটে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তিনি বলেন, "জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যগুলো আমরা যাচাই-বাছাই করছি। প্রয়োজনে ভবিষ্যতে তাঁকে আবারও রিমান্ডে নেওয়া হতে পারে।"

উল্লেখ্য, গত বুধবার হাফিজুর রহমানের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের জন্য ঢাকার সিআইডি ফরেনসিক ল্যাবে নেওয়া হয়েছিল। তনু হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন এবং ২০২৩ সালে অবসর গ্রহণ করেন। ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর তাঁর সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে মনে করছে তদন্ত সংস্থা।

সৈনিক শাহীন না জাহিদ? নাম নিয়ে ধোঁয়াশা

তদন্ত কর্মকর্তা ইতিপূর্বে আদালতে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে তিনজনের ডিএনএ নমুনা পরীক্ষার আবেদন জানিয়েছিলেন। এঁরা হলেন—সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান, সার্জেন্ট জাহিদ এবং সৈনিক শাহীন আলম।

তবে মামলার বাদী ও তনুর বাবা ইয়ার হোসেনের বক্তব্যে এক ধরণের বৈপরীত্য দেখা গেছে। শুরু থেকেই পরিবারের পক্ষ থেকে সার্জেন্ট জাহিদ ও জনৈক 'সৈনিক জাহিদ'-এর নাম বলা হলেও পিবিআইয়ের তালিকায় 'সৈনিক শাহীন আলম'-এর নাম আসায় প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা স্পষ্ট করেছেন যে, তাঁদের তদন্তে শাহীন আলমের নামই উঠে এসেছে এবং জাহিদ ও শাহীন দুজন আলাদা ব্যক্তি।

দীর্ঘ ৯ বছরের বিচারহীনতা

২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতর টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন সোহাগী জাহান তনু। পরে ঝোপের মধ্যে তাঁর ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘ ৯ বছর ধরে মামলাটি বিভিন্ন সংস্থার হাত ঘুরে এখন পিবিআইয়ের কাছে। একের পর এক ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ পরীক্ষা হলেও এখন পর্যন্ত এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উন্মোচিত না হওয়ায় জনমনে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।


অফিস: নিউ ইস্কাটন রোড, মগবাজার, ঢাকা-১০০০

ইমেইল : info@trendnewsbd.com