পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় এসএসসি পরীক্ষায় বড় ধরনের গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। বাংলা দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষায় এক পরীক্ষার্থীকে ২০২৬ সালের পরিবর্তে ভুলবশত ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থী চরম দুশ্চিন্তা ও ফলাফল নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) উপজেলার ইকড়ি মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী লামিয়া আক্তার উপজেলার কেশবলাল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নিয়মিত পরীক্ষার্থী।
লামিয়া আক্তার জানান, বহুনির্বাচনী (MCQ) পরীক্ষা শুরু হওয়ার সময় ওই কক্ষে প্রশ্নপত্রের সংকট দেখা দেয়। ফলে নির্ধারিত সময়ের প্রায় ৫ মিনিট পর তাকে একটি প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হয়। সময় স্বল্পতার কারণে তিনি দ্রুত পরীক্ষা সম্পন্ন করেন। পরীক্ষা শেষে কেন্দ্র থেকে বের হয়ে সহপাঠীদের সঙ্গে প্রশ্ন মেলাতে গিয়ে তিনি স্তম্ভিত হয়ে যান। দেখা যায়, বাকি সবার প্রশ্নপত্র ২০২৬ সালের হলেও লামিয়াকে দেওয়া হয়েছে ২০২৫ সালের প্রশ্ন।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বক্তব্যে সমন্বয়হীনতা লক্ষ্য করা গেছে:
কেন্দ্র সচিব: কেন্দ্র সচিব আমিরুল ইসলাম এমন অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, "এমন ঘটনা ঘটার কোনো সুযোগ নেই। কেন্দ্রে যথাযথ নিয়ম মেনেই প্রশ্ন বিতরণ করা হয়েছে।"
মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা: উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি আগে জানতেন না। তবে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে প্রয়োজনীয় তদন্ত করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (UNO): ইউএনও মো. হাসিবুল হাসান গণমাধ্যমকে জানান, বিষয়টি মাত্র তাঁর নজরে এসেছে এবং দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
লামিয়া আক্তার জানান, ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দেওয়ায় তাঁর ফলাফল কী হবে বা বোর্ড এই খাতা কীভাবে মূল্যায়ন করবে, তা নিয়ে তিনি চরম আতঙ্কে আছেন। ৫ মিনিট সময় নষ্ট হওয়া এবং ভুল প্রশ্ন পাওয়ার এই ঘটনা তাঁর পুরো ক্যারিয়ারের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন অভিভাবকরা।