গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমান বিএনপি নেতা রাশেদ খান ছাত্রশিবিরের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অবস্থান ও কৌশল নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন। বৃহস্পতিবার রাতে নিজের ফেসবুক ভেরিফায়েড আইডিতে এক স্ট্যাটাসে তিনি দাবি করেন, শিবিরের বর্তমান কর্মকাণ্ড ও অসহনশীল আচরণ শেষ পর্যন্ত অপশক্তির পুনরুত্থানের পথ প্রশস্ত করতে পারে।
রাশেদ খান তাঁর স্ট্যাটাসে শিবিরের সাংগঠনিক কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, শিবির তাদের বড় একটি অংশকে ‘সাধারণ শিক্ষার্থী’ পরিচয়ে রেখে দেয়। এর কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন:
চাকরির ভেরিফিকেশন: জামায়াত ক্ষমতায় না থাকায় সরাসরি রাজনৈতিক পরিচয় প্রকাশ করলে সরকারি চাকরিতে ভেরিফিকেশন জটিলতায় পড়ার ভয়।
অনুপ্রবেশের কৌশল: ক্ষমতাসীনদের ছত্রছায়ায় থেকে সুযোগ-সুবিধা আদায়ের জন্য অন্য দলে বা পরিচয়ে ঢুকে পড়া।
তিনি মন্তব্য করেন, "শিবিরের এই পলিসির কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কে সাধারণ শিক্ষার্থী আর কে শিবির—এই সন্দেহ একটি বড় ধরনের সংকট তৈরি করছে।"
বিএনপি নেতা রাশেদ খান শিবিরকে প্রকাশ্য রাজনীতিতে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে মেধা থাকলে রাজনৈতিক কারণে চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার সুযোগ নেই। তবে এজন্য শিবিরের নিজেদের আচরণেও পরিবর্তন আনা জরুরি। তিনি বলেন:
সরকারকে সহযোগিতার অভাব: সরকারকে সহযোগিতা না করে সারাক্ষণ 'নব্য ফ্যাসিবাদ', 'চাঁদাবাজ' বা 'সংস্কার বিরোধী' বলে বিষোদগার করা হচ্ছে।
হুমকি ও আস্ফালন: ১৬ দিনের মধ্যে সরকারের পতন ঘটানো বা বিএনপিকে আওয়ামী লীগের মতো অবস্থায় ফেলার যে হুমকি দেওয়া হচ্ছে, তা বাংলাদেশের বাস্তবতায় অগ্রহণযোগ্য।
স্ট্যাটাসের শেষ দিকে রাশেদ খান অত্যন্ত কড়া ভাষায় সতর্ক করে বলেন, "সহনশীল পরিবেশ তৈরি করতে আপনাদের যথেষ্ট সহনশীল হতে হবে। নতুবা যা শুরু করেছেন, আপনাদের কারণেই আওয়ামী লীগ ফিরবে। আর লীগ ফিরলে সকল হাউকাউ কিন্তু তারাই বন্ধ করে দিবে!"