আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বর্তমানে সবচেয়ে আলোচিত শব্দবন্ধ হলো ‘নিউক্লিয়ার ডাস্ট’ (Nuclear Dust)। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যবহৃত এই পরিভাষাটি মূলত ইরানের উচ্চ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুতকে নির্দেশ করছে, যা নিয়ে বর্তমানে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে এক চরম উত্তজনাপূর্ণ দড়ি টানাটানি চলছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভাষায়, ‘নিউক্লিয়ার ডাস্ট’ কোনো সাধারণ ধূলিকণা নয়; বরং এটি হলো গত বছরের (জুন ২০২৫) মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলার পর ধ্বংসপ্রাপ্ত পারমাণবিক স্থাপনার ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা উচ্চ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম (Highly Enriched Uranium)।
মজুত: ধারণা করা হয়, হামলার আগে ইরানের কাছে ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ প্রায় ৪০০ কেজি এবং ২০ শতাংশ সমৃদ্ধ প্রায় ২০০ কেজি ইউরেনিয়াম ছিল।
বিপদ: এই পরিমাণ ইউরেনিয়াম খুব অল্প সময়ের মধ্যে ৯৯ শতাংশ বা অস্ত্র-গ্রেড (Weapons-grade) ইউরেনিয়ামে রূপান্তর করা সম্ভব।
অবস্থান: আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) প্রধান রাফায়েল গ্রোসি জানিয়েছেন, এই তেজস্ক্রিয় উপাদানগুলো বর্তমানে ইসফাহান ও নাতাঞ্জ কেন্দ্রের মাটির গভীর সুড়ঙ্গে চাপা পড়ে আছে।
গত কয়েক দিনে এই ‘নিউক্লিয়ার ডাস্ট’ নিয়ে দুই পক্ষ থেকে সম্পূর্ণ বিপরীতধর্মী বার্তা পাওয়া গেছে:
ট্রাম্পের দাবি: ট্রাম্প গত শুক্রবার (১৮ এপ্রিল) দাবি করেছেন, ইরান এই ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দিতে রাজি হয়েছে। তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, সমঝোতা না হলে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনে ‘ভিন্ন উপায়ে’ (সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে) এটি উদ্ধার করবে।
ইরানের প্রত্যাখ্যান: ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমায়েল বাগাই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, “ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কোথাও পাঠানো হবে না।” এমনকি ট্রাম্পের এই দাবিকে তিনি অনেকটা উপহাসের ছলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন চাইছে ইরানকে সম্পূর্ণ ‘নিউক্লিয়ার-মুক্ত’ করতে। অন্যদিকে ইরান চায় তাদের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার বজায় রাখতে।
যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল: এই তেজস্ক্রিয় উপাদানগুলো উদ্ধার করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া বা ধ্বংস করা যাতে ইরান আর কখনোই পরমাণু বোমা বানাতে না পারে।
ইরানের লক্ষ্য: ২০৪১ সালের মধ্যে ২০ গিগাওয়াট পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা। যদিও জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, তেলের বিশাল মজুত থাকা সত্ত্বেও ইরানের এই পরমাণু প্রীতি আসলে সামরিক কৌশলগত।