অপরিশোধিত তেলের (Crude Oil) তীব্র সংকটের কারণে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি লিমিটেড (ইআরএল) অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার বিকেলে শেষবারের মতো পরিশোধন কার্যক্রম চালানোর পর কারখানাটির উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের প্রভাবে গত দুই মাস ধরে তেল আমদানি ব্যাহত হওয়ায় এই নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
ইআরএল সূত্র জানিয়েছে, শোধনাগারটি সচল রাখতে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছিল:
তলানির তেল ব্যবহার: সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) পাইপলাইনে জমে থাকা ৫ হাজার টন এবং স্টোরেজ ট্যাংকের তলানিতে পড়ে থাকা ‘ডেড স্টক’ তুলেও পরিশোধন কাজ চালানো হয়েছে।
উৎপাদন হ্রাস: স্বাভাবিক সময়ে দৈনিক ৪,৫০০ টন তেল পরিশোধন করা হলেও সংকটের কারণে গত মাস থেকে তা ৩,৫০০ টনে নামিয়ে আনা হয়েছিল।
বর্তমান অবস্থা: গত ৪ মার্চের পর ব্যবহারযোগ্য তেলের মজুত ২ হাজার টনের নিচে নেমে আসে, যা একটি বড় শোধনাগারের জন্য নগণ্য।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) তথ্যমতে, দেশে বছরে প্রায় ৬৫-৬৮ লাখ টন জ্বালানি তেল লাগে, যার মধ্যে ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল ইআরএল-এ পরিশোধন করা হয়। মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি বন্ধ থাকায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। তবে জ্বালানি বিভাগ আশ্বস্ত করেছে যে:
দেশে বর্তমানে পরিশোধিত জ্বালানি তেলের (ডিজেল, পেট্রোল ইত্যাদি) পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে।
সরবরাহ ব্যবস্থায় তাৎক্ষণিক কোনো বড় প্রভাব পড়বে না।
আগামী মে মাসের প্রথম সপ্তাহে তেলের পরবর্তী চালান দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে, ততক্ষণ পর্যন্ত শোধনাগারটি বন্ধই থাকবে।
এই জরুরি পরিস্থিতিতে ইআরএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শরীফ হাসনাত এবং বিপিসি চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।