মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তজনা এবং ইসরায়েল-ইরান প্রত্যক্ষ সংঘাতের আশঙ্কায় আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি। ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তাদের জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে বা তেল রপ্তানিতে কোনো প্রকার বাধা আসলে তারা এই কৌশলগত জলপথটি পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে দ্বিধা করবে না।
ইরানি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (IRGC)-এর নৌ-শাখার পক্ষ থেকে সম্প্রতি এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, হরমুজ প্রণালিতে বিদেশি শক্তির উপস্থিতি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি। তেহরানের দাবি, তারা এই রুটের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখছে এবং প্রয়োজন পড়লে ‘শত্রুভাবাপন্ন’ যেকোনো বাণিজ্যিক বা সামরিক জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার সক্ষমতা তাদের রয়েছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান হরমুজ প্রণালিকে একটি ‘ডিটারেন্স’ বা কৌশলগত অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। দেশটির তেল অবকাঠামো বা পরমাণু কেন্দ্রে কোনো হামলা হলে এর পাল্টা জবাব হিসেবে তারা বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা স্থবির করে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। গত কয়েক সপ্তাহে এই প্রণালিতে ইরানের ড্রোন ও মিসাইল সমৃদ্ধ নৌ-মহড়া সেই বার্তাই আরও স্পষ্ট করেছে।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিশ্বের প্রায় ২০% অপরিশোধিত তেল পরিবাহিত হয়। এই রুটটি বন্ধ হলে বা জাহাজ চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হলে বৈশ্বিক বাজারে তেলের দাম রেকর্ড পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। ইতোমধ্যে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম প্রতি ব্যারেলে ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে, যা প্রণালিটি বন্ধ হলে ১৫০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
ইরানের এই কড়া অবস্থানের প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্ররা লোহিত সাগরের পাশাপাশি পারস্য উপসাগরেও নৌ-টহল জোরদার করেছে। পেন্টাগন জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে তারা যেকোনো পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।