আসন্ন ঢাকা আইনজীবী সমিতির (ঢাকা বার) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে আদালত পাড়া। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ শিশির মনির ঘোষণা দিয়েছেন যে, নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে চলা ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ ও ‘পাতানো’ নির্বাচনে জামায়াত-ইসলামি সমর্থিত সবুজ প্যানেল অংশগ্রহণ করবে না।
বুধবার দুপুরে ঢাকা বার ভবনের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বর্তমান অ্যাডহক কমিটির পক্ষপাতমূলক আচরণের তীব্র নিন্দা জানান।
শিশির মনির অভিযোগ করেন যে, নির্বাচন অনুষ্ঠানের আগেই একটি নির্দিষ্ট প্যানেলকে সুবিধা দিতে নির্বাচন কমিশনকে নিজেদের মতো করে সাজানো হয়েছে। তাঁর ভাষ্যমতে:
নির্বাচন কমিশনের ১১ জন সদস্যের মধ্যে প্রথা অনুযায়ী দুই প্যানেল থেকে ৫ জন করে থাকার কথা থাকলেও, বর্তমানে একটি প্যানেল থেকেই ৭ জনের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার বাদে বাকি ১১০ জন কর্মকর্তার মধ্যে ৫৫ জন সবুজ প্যানেল এবং ৫৫ জন অন্য প্যানেল থেকে নিতে হবে।
যদি স্বচ্ছতা নিশ্চিত না করা হয় এবং নির্বাচন কমিশন ‘দখল’ করা হয়, তবে তাকে পাতানো খেলা হিসেবে গণ্য করবে সবুজ প্যানেল।
অতীতের ‘ভোট চুরির’ অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “ব্যালট বাক্স পার্টি অফিসে নিয়ে গিয়ে গণনা করার দিন শেষ। আমরা দাবি জানাচ্ছি, এবার ঢাকা বারে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভোট গণনা করতে হবে। আমাদের হাতে গণনা বা আপনাদের কমিশনারদের ওপর বিশ্বাস নেই।”
জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের ত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে শিশির মনির বলেন, “দেড় হাজার মানুষের জীবনের বিনিময়ে অর্জিত এই বাংলাদেশে যদি আবারও ফ্যাসিস্ট মানসিকতার পরিচয় দেওয়া হয়, তবে আপনাদের ভাগ্যও ফ্যাসিস্টদের মতোই হবে। আইনজীবীরা ন্যায়ের পক্ষে, তারা কোনো ষড়যন্ত্র মেনে নেবে না।”
আগামী ২৯ ও ৩০ এপ্রিল ঢাকা বারের কার্যনির্বাহী কমিটির ২৩টি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সমিতির প্রায় ৩০ হাজার আইনজীবী এবার ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে বিএনপি ও জামায়াতপন্থী আইনজীবীদের সমন্বয়ে গঠিত একটি অ্যাডহক কমিটি বর্তমানে বার পরিচালনা করছে।