প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে ‘কৃষক কার্ড’ গ্রহণ করার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে টাঙ্গাইলের কবির হোসেন। তবে এই আলোচনা দ্রুতই সমালোচনায় রূপ নেয়, যখন তাঁর কিছু ‘বিলাসবহুল’ ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ে। নেটিজেনদের একাংশ দাবি করতে থাকেন যে, কবির আসলে কৃষক নন, বরং একজন বিত্তশালী ব্যক্তি যিনি ভুয়া পরিচয়ে কার্ড নিয়েছেন। তবে সরেজমিনে অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে ভিন্ন এক সত্য।
কবির হোসেনের যে ছবিগুলো নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, সেগুলো মূলত এআই (AI) জেনারেটেড বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি। ২০২৫ সালে শখের বশে তিনি এই ছবিগুলো নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে পোস্ট করেছিলেন। পিনাকী ভট্টাচার্যসহ অনেক প্রভাবশালী অ্যাক্টিভিস্ট সেই ছবিগুলো শেয়ার করায় সাধারণ মানুষের মনে বিভ্রান্তি তৈরি হয়।
বিভ্রান্তি কাটাতে বেশ কয়েকজন কনটেন্ট ক্রিয়েটর এবং স্থানীয় সংবাদকর্মী কবিরের গ্রাম টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের উত্তর তারুটিয়ায় পৌঁছান। সেখানে গিয়ে দেখা যায়:
কবির হোসেন একজন প্রকৃত কৃষক, যিনি ১২ মাসই কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত থাকেন।
কৃষিকাজের পাশাপাশি তিনি কৃষকদের জীবন সংগ্রাম ও কৃষি বৈচিত্র্য নিয়ে ফেসবুকে নিয়মিত কনটেন্ট তৈরি করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারাও সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, কবির একজন পরিশ্রমী ও সচেতন কৃষক। জিম রাকিব নামে একজন বলেন, "কবির ভাই কৃষক। আমি নিজে তাঁর স্যালো মেশিনে গোসল করে আসছি এবং তাঁর চাষাবাদের জমিও দেখেছি।"
সমালোচনার জবাবে কবির হোসেন তাঁর ফেসবুক পেজে কৃষিকাজের একটি লাইভ ভিডিও পোস্ট করেছেন। সেখানে তিনি বলেন, “আপনারাই দেখেন আমি কৃষক, নাকি বড় কোনো অফিসার। যারা আমাকে নিয়ে ভুল তথ্য ছড়াচ্ছেন, তাঁদের উচিত আগে সত্যতা যাচাই করা।”
সোশ্যাল মিডিয়ায় কবিরের পক্ষে এখন জোরালো জনমত তৈরি হচ্ছে। মির্জা ফজলে রাব্বি লিখেছেন, “টাঙ্গাইলে ভাইরাল কৃষক কবির ভাই সত্যিই একজন প্রকৃত কৃষক।” অন্যদিকে রিফাত ইসলাম সতর্ক করে লিখেছেন, “কবির কাকার যে ছবিগুলো ভাইরাল হয়েছে, সবগুলাই এআই দিয়ে বানানো, অথচ মানুষ সেগুলোকেই সত্য ভাবছে।”