জীর্ণ পুরাতন যাক ভেসে যাক: আজ চৈত্র সংক্রান্তি, ১৪৩২ বঙ্গাব্দের শেষ দিন


অনলাইন ডেস্ক | ট্র্যান্ডনিউজবিডি | কুবলাই , আপডেট করা হয়েছে : 13-04-2026

জীর্ণ পুরাতন যাক ভেসে যাক: আজ চৈত্র সংক্রান্তি, ১৪৩২ বঙ্গাব্দের শেষ দিন

চৈত্রদিনের সেই তপ্ত দুপুর আর শুকনো পাতার মর্মর ধ্বনি আজ এক বিষণ্ন অথচ আশাবাদী সুর বয়ে আনছে। আজ ৩০ চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ। ঋতুচক্রের অমোঘ নিয়মে জীর্ণ-পুরাতনকে বিদায় জানিয়ে মহাকালের গর্ভে হারিয়ে যেতে বসেছে আরেকটি বাংলা বছর। চৈত্র সংক্রান্তি কেবল পঞ্জিকার পাতায় একটি দিনের সমাপ্তি নয়, এটি বাঙালির হাজার বছরের আবেগ, ঐতিহ্য আর পুনর্জাগরণের এক নীরব সন্ধিক্ষণ।

বাংলার জনপদে এই দিনটি পালিত হয় এক অনন্য সাধারণ গাম্ভীর্য ও উৎসবের আবহে। শহরের যান্ত্রিকতায় এর রূপ কিছুটা বদলালেও গ্রামবাংলার নিসর্গে চৈত্র সংক্রান্তি আজও তার আদিম ও অকৃত্রিম রূপ ধরে রেখেছে। একসময় পাহাড়ি জনগোষ্ঠী ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আচারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও, সময়ের বিবর্তনে এটি আজ এক সর্বজনীন উৎসবে রূপ নিয়েছে। ব্যবসায়ীরা তাঁদের পুরনো হিসাব চুকিয়ে ‘হালখাতা’ খোলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যা নতুন সূচনার এক চমৎকার প্রতীকী বহিঃপ্রকাশ।

খাদ্য সংস্কৃতিতেও এই দিনের রয়েছে নিজস্ব স্বাতন্ত্র্য। আমিষ বর্জন করে তেতো ও শাকসবজি খাওয়ার প্রাচীন প্রথা কেবল ধর্মীয় বিশ্বাস নয়, বরং নিগূঢ় স্বাস্থ্যচেতনারও পরিচায়ক। কোথাও কোথাও ১৪ প্রকার শাক দিয়ে ‘শাকান্ন’ রান্না কিংবা ছাতু খাওয়ার উৎসব প্রকৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর এক শৈল্পিক রীতি। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা শিবপূজা ও ব্রতপালনের মধ্য দিয়ে আগামী দিনের সুখ-সমৃদ্ধির প্রার্থনা করছেন।

রাজধানীসহ সারা দেশেই আজ বছর বিদায়ের সুর। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে আজ বিকেলে বসছে বর্ণাঢ্য আয়োজন। যন্ত্রশিল্পীদের সম্মিলিত অর্কেস্ট্রা ‘তোরা সব জয়ধ্বনি কর’ থেকে শুরু করে ধামাইল নৃত্য, জারিগান, পটগান আর পুঁথিপাঠের আসর—সবই জানান দিচ্ছে আমাদের শেকড়ের ঐশ্বর্যকে। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নিজস্ব নাচ-গান আর চিরায়ত যাত্রাপালা ‘রহিম বাদশা রূপবান কন্যা’ যেন আজকের বিকেলটিকে এক টুকরো গ্রামীণ বাংলাদেশে পরিণত করবে। পুরাতনকে ধুয়ে-মুছে দিয়ে নতুনের আবাহনে মুখর এই চৈত্র সংক্রান্তি আমাদের মনে করিয়ে দেয়—শেষ মানেই এক নতুন ও সুন্দর শুরুর অপেক্ষা।


অফিস: নিউ ইস্কাটন রোড, মগবাজার, ঢাকা-১০০০

ইমেইল : info@trendnewsbd.com