জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন যে, বর্তমান বিএনপি সরকার নিজেদের কাজের বৈধতা দিতে ‘জুলাই যোদ্ধা’ বা ‘একাত্তর’—এর নাম ব্যবহার করলেও প্রকৃতপক্ষে তারা কোনো আদর্শকেই ধারণ করে না। রোববার (১২ এপ্রিল) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জুলাই শহীদ পরিবার ও যোদ্ধাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম তাঁর বক্তব্যে দাবি করেন, বাংলাদেশের সংস্কারের পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বর্তমান সরকার। তিনি বলেন: “আমরা চেয়েছিলাম সংসদে সবকিছুর সমাধান হবে। কিন্তু সংসদকে ব্যর্থ করে দেওয়া হয়েছে। সরকার কখনো সংস্কার বাস্তবায়ন করবে না। তাই এবার আমাদের নতুন করে গণআন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে হবে।”
তিনি ঘোষণা দেন যে, এবারের আন্দোলনে পরিকল্পনা মোতাবেক রাজপথে নামা হবে এবং কোনো ‘অর্ধেক সফলতা’ মেনে নেওয়া হবে না। প্রয়োজনে গুলি আগে নেতাদের বুকে লাগবে বলেও তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
এনসিপি আহ্বায়কের মতে, বিএনপি সবসময়ই গণআন্দোলনের সুফল ভোগ করে কিন্তু ক্ষমতায় গিয়ে জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে বিসর্জন দেয়।
ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি: ৯০-এর গণঅভ্যুত্থানের পর তিন জোটের রূপরেখা ছুঁড়ে ফেলার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারও ‘জুলাই সনদ’ এবং সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশগুলো প্রত্যাখ্যান করছে।
শহীদদের ব্যবহার: সরকার জুলাই শহীদ ও আহতদের নিয়ে রাজনীতি করছে এবং তাদের নাম ব্যবহার করে অন্যায্য কাজের বৈধতা খুঁজছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
নাহিদ ইসলাম স্পষ্ট করে বলেন, সংস্কার কোনো নির্দিষ্ট দলের নয়, এটি বাংলাদেশ রক্ষার দাবি। তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, সংস্কার বাস্তবায়নে বিএনপি কিংবা কোনো বিদেশি শক্তি বাধা দিলে তাদের পরাজিত করে ‘নতুন বাংলাদেশ’ প্রতিষ্ঠা করা হবে। এগারো দলীয় জোটের এই সভায় শহীদ পরিবারের সদস্যরাও তাঁদের দাবি-দাওয়া তুলে ধরেন।