রাজধানীর শ্যামলীতে অবস্থিত বিখ্যাত সিকেডি অ্যান্ড ইউরোলজি হাসপাতালে রাজনৈতিক পরিচয়ে চাঁদাবাজি, মালামাল সরবরাহে অনিয়ম এবং হাসপাতাল প্রাঙ্গণে ‘মব’ বা জনতা জড়ো করে আতঙ্ক সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (১১ এপ্রিল) এক সংবাদ সম্মেলনে হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রখ্যাত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম এই অভিযোগ করেন।
ডা. কামরুল ইসলাম জানান, গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই স্থানীয় যুবদল নেতা মঈন উদ্দিন হাসপাতালে মালামাল সরবরাহের জন্য চাপ সৃষ্টি করে আসছিলেন।
অতিরিক্ত দাম: ডা. কামরুলের অভিযোগ, মঈন উদ্দিন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই চাল ও ডিম সরবরাহ শুরু করেন এবং বাজারদরের চেয়ে প্রতি কেজিতে অন্তত ১০ টাকা বেশি দাম ধরতেন।
অনিয়ম বন্ধে বাধা: হাসপাতাল একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হওয়ায় কর্তৃপক্ষ সরাসরি বাজার থেকে মালামাল কেনার সিদ্ধান্ত নিলে মঈন উদ্দিন ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ১০ এপ্রিল শুক্রবার সকালে মঈন উদ্দিন একদল লোক নিয়ে হাসপাতালে এসে কুরুচিপূর্ণ স্লোগান দেন এবং একটি কৃত্রিম ‘মব’ তৈরির মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত করার চেষ্টা করেন। এর আগেও গত ২৯ মার্চ তিনি হাসপাতালের কর্মচারীদের হুমকি দিয়েছিলেন, যা নিয়ে ৩০ মার্চ শেরেবাংলা নগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
ডা. কামরুল ইসলাম আক্ষেপ করে বলেন: “আমরা স্থানীয় নেতাদের জানালে তাঁরা বলেন, এই ছেলে কাউকে মানে না। মব তৈরির পর পুলিশকেও কিছুটা আতঙ্কিত মনে হয়েছে। আমরা সাধারণ মানুষ যদি ভয় পাই, আর পুলিশও যদি ভয় পায়, তবে সমাজ কীভাবে চলবে?”
সিকেডি হাসপাতাল গত ১৭ বছরে দুই হাজারের বেশি সফল কিডনি প্রতিস্থাপন করে দেশে অনন্য নজির স্থাপন করেছে। এখানে স্বল্পমূল্যে চিকিৎসা ও প্রতিদিন তিন বেলা বিনামূল্যে খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে।
এ ঘটনায় দ্রুত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করায় অধ্যাপক কামরুল ইসলাম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, রাজনৈতিক নেতৃত্বের কঠোর হস্তক্ষেপে স্বাস্থ্যখাতকে চাঁদাবাজমুক্ত রাখা সম্ভব হবে।