বিগত সরকারের পতন ও পরবর্তী গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে জনমনে পুলিশের ভাবমূর্তি ও মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব ঘুচাতেই মূলত দ্রুততম সময়ের মধ্যে ইউনিফর্ম পরিবর্তনের এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত এক সপ্তাহে পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা দুবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পাঁচটি রঙের নমুনা (স্যাম্পল) উপস্থাপন করেছেন।
হঠাৎ এই পোশাক পরিবর্তনের পেছনে প্রধান তিনটি কারণ রয়েছে:
বিগত জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের সময় পুলিশের বর্তমান পোশাকটি (গাঢ় নীল রঙের ইউনিফর্ম) সাধারণ মানুষের কাছে এক ধরনের নেতিবাচক ও ভীতিকর প্রতীকে পরিণত হয়েছে বলে মনে করে প্রশাসন। পুলিশ সদস্যদের দাবি, এই পোশাক পরে মাঠে কাজ করতে গিয়ে তাঁরা সাধারণ মানুষের কাছে আস্থার সংকটে পড়ছেন। তাই একটি ‘ফ্রেশ স্টার্ট’ বা নতুন শুরুর জন্য পোশাক পরিবর্তনকে জরুরি মনে করা হচ্ছে।
আন্দোলনের সময় এবং পরবর্তী পরিস্থিতিতে পুলিশ সদস্যদের মধ্যে যে নৈতিক মনোবল ভেঙে পড়েছিল, তা ফিরিয়ে আনতে নতুন পোশাক একটি প্রভাবক হিসেবে কাজ করবে। নতুন ইউনিফর্মে পুলিশ সদস্যদের মধ্যে নতুন করে পেশাদারিত্ব ও সেবার মানসিকতা জাগ্রত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
অন্তর্র্বতী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরই পুলিশের ইউনিফর্ম এবং লোগো পরিবর্তনের বিষয়টি আলোচনায় আসে। এ জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। বর্তমান ইউনিফর্মটি বিগত সরকারের আমলে প্রবর্তিত হয়েছিল, যা নিয়ে খোদ বাহিনীর ভেতরেই অনেকদিন ধরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ছিল। বিশেষ করে গরমের মধ্যে আরামদায়ক কাপড়ের প্রয়োজনীয়তাও একটি বড় কারণ।
রং: নীল রঙের পরিবর্তে হালকা ধূসর, জলপাই বা অফ-হোয়াইট রঙের শেডগুলো বিবেচনায় রয়েছে।
কাপড়: আবহাওয়া উপযোগী আরামদায়ক ফ্যাব্রিক ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
লোগো: ইউনিফর্মের পাশাপাশি পুলিশের লোগোতেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত পাঁচটি রঙের মধ্য থেকে একটি চূড়ান্ত করে তা অনুমোদনের জন্য দ্রুতই পরবর্তী ধাপে পাঠানো হবে।