দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগে নেপালের শ্রম, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তা মন্ত্রী দীপ কুমার শাহকে বরখাস্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। গত ৯ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) এক নাটকীয় পদক্ষেপে তাঁকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, মাত্র ১৫ দিন আগে গত ২৮ মার্চ তিনি মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন।
দীপ কুমার শাহের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি তাঁর পদের অপব্যবহার করে নিজের স্ত্রী জুনু শ্রেষ্ঠাকে নেপালের স্বাস্থ্যবিমা বোর্ডের সদস্য হিসেবে পুনরায় নিয়োগ দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন। অভিযোগ রয়েছে যে, জুনু শ্রেষ্ঠা দীর্ঘদিন ধরে ওই পদে নিষ্ক্রিয় ছিলেন, কিন্তু দীপ কুমার শাহ মন্ত্রী হওয়ার পরই তাঁর পদটি পুনরায় সচল করা হয়। রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির (RSP) কেন্দ্রীয় শৃঙ্খলা কমিটি তদন্ত শেষে বিষয়টিকে ‘পদের অমর্যাদা’ ও ‘স্বজনপ্রীতি’ হিসেবে চিহ্নিত করে।
দীপ কুমার শাহ রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (RSP)-এর প্রতিনিধি হিসেবে মন্ত্রিসভায় যুক্ত হয়েছিলেন। দলের সভাপতি ও উপ-প্রধানমন্ত্রী রবি লামিছানে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিক সুপারিশ করেন। নেপালের রাজনৈতিক ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো দল তাঁদের নির্বাচিত প্রতিনিধির বিরুদ্ধে ‘রাইট টু রিকল’ ক্ষমতার ব্যবহারের সুপারিশ করল।
রবি লামিছানে তাঁর চিঠিতে বলেন: “মন্ত্রীর এই কর্মকাণ্ড আমাদের দলের আদর্শ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির পরিপন্থী। আমরা জনতাকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
এই ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ কেবল শ্রমমন্ত্রীকে বরখাস্তই করেননি, বরং স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা মন্ত্রী নিশা মেহতাকেও আনুষ্ঠানিক সতর্কতা জারি করেছেন। অভিযোগ রয়েছে যে, নিশা মেহতা যথাযথ গুরুত্বের সাথে বিষয়টি তদারকি করেননি এবং দীপ কুমার শাহের স্ত্রীর নিয়োগে ‘সবুজ সংকেত’ দিয়েছিলেন।
বর্তমান পরিস্থিতি:
মন্ত্রণালয়: শ্রম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ নিজেই গ্রহণ করেছেন।
মন্ত্রিসভা: এই রদবদলের পর নেপালের বর্তমান মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা এখন ১৪ জন।
গত বছর জেন-জি (Gen Z) আন্দোলনের মাধ্যমে দুর্নীতিমুক্ত নতুন প্রজন্মের সরকার গঠনের যে আওয়াজ উঠেছিল, বালেন্দ্র শাহের এই ত্বরিত পদক্ষেপ সেই প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।