হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে ভয়াবহ অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে সুনামগঞ্জ। শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশাল গণসমাবেশে হাজারো কৃষক ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন। সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, হাওরের বাঁধ নির্মাণ এখন গলার কাঁটায় পরিণত হয়েছে এবং উন্নয়নের নামে লুটপাটের মহোৎসব চলছে।
সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ রাজু আহমেদ-এর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তারা বলেন, প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ হলেও অপরিকল্পিত বাঁধের কারণে জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে, যা ফসলের চরম ক্ষতি করছে। কৃষকদের দাবি, হাওরে বাঁধ নির্মাণ এখন এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তার ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। নদী খনন না করে কেবল মাটির বাঁধ দিয়ে কৃষকদের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে।
সমাবেশ থেকে কৃষকদের পক্ষ থেকে ১০টি সুনির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করা হয়। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
ক্ষতিপূরণ: জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করে দ্রুত পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান।
ঋণ মওকুফ: ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কৃষিঋণ ও এনজিও-র কিস্তি মওকুফ করা।
তদন্ত ও অপসারণ: অপ্রয়োজনীয় ও অপরিকল্পিত বাঁধ চিহ্নিত করে তা অপসারণ এবং কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিচার বিভাগীয় তদন্ত।
অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ: যাদুকাটা, ধোপাযান ও চিলাই নদীসহ বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করা।
খনন: হাওরের সাথে যুক্ত নদী, খাল ও বিল দ্রুত খনন করা।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন হাওলাদার দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, কাবিটা নীতিমালা অনুযায়ী কাজ করা হয়েছে। পাউবো সূত্রে জানা গেছে:
বরাদ্দ: ১২টি উপজেলায় ১৪৫ কোটি টাকা।
প্রকল্প: ৭১০টি প্রকল্পের মাধ্যমে ৬০২ কিমি বাঁধ নির্মাণ।
সময়সীমা: ২৮ ফেব্রুয়ারি কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও অনেক জায়গায় নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হয়নি।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এ বছর সুনামগঞ্জের ১৩৭টি হাওরে ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে, যার লক্ষ্যমাত্রা ১৪ লাখ মেট্রিক টন। সপ্তাহখানেক পরেই ধান কাটা শুরু হবে। কৃষকদের শঙ্কা, যদি বাঁধ টেকসই না হয় তবে তাদের সারা বছরের ঘাম ঝরানো ফসল পানির নিচে তলিয়ে যেতে পারে।
সমাবেশে বক্তব্য দেন সাবেক অধ্যক্ষ সৈয়দ মহিবুল ইসলাম, শিক্ষক চিত্তরঞ্জন তালুকদার, ওবায়দুল হকসহ বিভিন্ন উপজেলার কৃষক প্রতিনিধিরা।