ইরানের সাথে সরাসরি আলোচনার জন্য মার্কিন প্রতিনিধি দল বর্তমানে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অবস্থান করছে। এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক তৎপরতার মুখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে বিশেষ বার্তা দিয়েছেন। একই সাথে ইরানের ভবিষ্যৎ ও হরমুজ প্রণালী নিয়ে নিজের অনড় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি।
ইসলামাবাদে যুদ্ধবিরতি ও দ্বিপাক্ষিক আলোচনার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার আগে জেডি ভ্যান্সকে কী বলেছেন— সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে ট্রাম্প সংক্ষিপ্ত কিন্তু অর্থবহ জবাবে বলেন, ‘আমি তাকে শুভকামনা জানিয়েছি।’ তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই আলোচনা একবারেই শেষ হবে, নাকি দীর্ঘমেয়াদে চলবে, সে বিষয়ে ট্রাম্প এখনই কোনো নিশ্চয়তা দেননি।
ইরানের সাথে আলোচনা ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে কোনো ‘প্ল্যান বি’ বা বিকল্প পরিকল্পনা আছে কি না, জানতে চাওয়া হলে ট্রাম্প আত্মবিশ্বাসের সাথে বলেন, ‘বিকল্প পরিকল্পনার দরকার নেই।’ ইরানের সাথে একটি ‘ভালো চুক্তি’র সংজ্ঞা দিতে গিয়ে ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন— ‘কোনো পারমাণবিক অস্ত্র নয়।’ এছাড়া তিনি একটি চাঞ্চল্যকর দাবি করে বলেন, তাঁর মতে ইরানে ইতোমধ্যেই শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন (Regime Change) ঘটে গেছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালী নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থান ছিল অত্যন্ত কঠোর। তিনি ঘোষণা করেন:
প্রণালী উন্মুক্ত করা: ইরানের সহযোগিতা থাকুক বা না থাকুক, খুব শিগগিরই হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া হবে। যদিও ট্রাম্পের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের নিজের জন্য এর প্রয়োজন নেই।
শুল্ক আরোপ: ইরান যদি এই প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর ওপর কোনো ধরনের শুল্ক আরোপ করার চেষ্টা করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র তা কোনোভাবেই হতে দেবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
ইসলামাবাদে চলমান এই বৈঠকটি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তেজনা প্রশমনে কতটা কার্যকর হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
সূত্র: বিবিসি বাংলা