শ্রমিকদের সন্তানদের উচ্চশিক্ষিত করে গড়ে তোলার দায়িত্ব রাষ্ট্রকেই নিতে হবে বলে দাবি জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ত্রিবার্ষিক জাতীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কেবল উচ্চবিত্তের সন্তানরাই রাষ্ট্র পরিচালনা করবে—এমন প্রথা ভাঙতে হবে। তাঁর ভাষায়: “শুধু রাজার ছেলে রাজা হবে—আমরা এই নীতিতে বিশ্বাস করি না। শ্রমিকদের সন্তানদের প্রধানমন্ত্রী হতে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। সে জন্য আমরা চাই শ্রমিকদের ঘর থেকেও তাদের সন্তানেরা প্রধানমন্ত্রী হয়ে আসুক। সেভাবেই তাদের শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে হবে। আর এই দায়িত্ব রাষ্ট্রকেই নিতে হবে।”
সরকারের সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, শ্রমিকদের সকল অধিকারের বিষয়টি কেবল মালিকদের ঘাড়েই ঠেলে দেওয়া উচিত নয়। রাষ্ট্রকেও সমানভাবে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি কয়েকটি সুনির্দিষ্ট দাবি জানান:
বিশেষায়িত হাসপাতাল: শ্রমঘন এলাকায় সাধারণ হাসপাতালের পাশাপাশি মানসম্মত বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণ করতে হবে।
চিকিৎসা ব্যয়: শ্রমিকের চিকিৎসার ব্যয়ভার মালিক ও রাষ্ট্রকে যৌথভাবে বহন করতে হবে।
মানবিক শিক্ষা: শ্রমিকের সন্তানদের সুশিক্ষার পাশাপাশি মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার দায়িত্ব রাষ্ট্রকে নিতে হবে।
জামায়াত আমির স্মরণ করিয়ে দেন যে, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে শহীদ হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৬২ ভাগই ছিলেন শ্রমিক। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, যারা 'সোনার চামচ মুখে দিয়ে জন্ম নিয়েছে', তারা শ্রমিকদের ব্যথা বোঝে না বলেই দীর্ঘ সময় ধরে তাঁদের দাবি অপূর্ণ রয়ে গেছে।
মালিক ও শ্রমিকের মধ্যে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, “মালিক-উদ্যোক্তা না থাকলে শ্রমিকেরা কাজ পাবেন না, আবার শ্রমিক না থাকলে মালিকেরা শিল্প চালাতে পারবেন না। মালিক বাঁচলে শ্রমিক বাঁচবে, আর শ্রমিক বাঁচলে শিল্প বাঁচবে।”
শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের বিদায়ী সভাপতি আ ন ম শামসুল ইসলামের সভাপতিত্বে সম্মেলনে জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ লেবার পার্টি, এবি পার্টি ও জাগপা-র প্রতিনিধিরা বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। সম্মেলনে আতিকুর রহমানকে সংগঠনের নতুন সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।