বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির চাঞ্চল্যকর মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ আরও একবার পিছিয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) প্রতিবেদন জমা দেওয়ার দিন ধার্য থাকলেও তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে সিআইডি। এ নিয়ে গত আট বছরে মোট ৯৪ বার পেছাল এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা।
ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে বৃহস্পতিবার মামলাটির প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ছিল। কিন্তু মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রায়হান উদ্দিন খান প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি। এর প্রেক্ষিতে আদালত আগামী ১৮ মে প্রতিবেদন দাখিলের নতুন দিন ধার্য করেছেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রুকনুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক পেমেন্ট নেটওয়ার্ক ‘সুইফট’ (SWIFT) ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার সরিয়ে নেয় হ্যাকাররা।
গন্তব্য: ফিলিপিন্সের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশন (RCBC)।
উদ্ধার: ৮ কোটি ১০ লাখ ডলারের মধ্যে মাত্র ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
নিখোঁজ: এখনও বাকি ৬ কোটি ৬৪ লাখ ডলারের কোনো হদিস মেলেনি।
রিজার্ভ চুরির ঘটনার পর ২০১৬ সালের ১৫ মার্চ মতিঝিল থানায় অর্থপাচার প্রতিরোধ আইনে মামলা করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক জুবায়ের বিন হুদা। যদিও মামলায় সরাসরি কাউকে আসামি করা হয়নি, তবে সন্দেহ করা হয়েছিল যে দেশি ও বিদেশি একটি চক্র সম্মিলিতভাবে এই পাচার সম্পন্ন করেছে।
অর্থ উদ্ধারের আশায় ২০১৯ সালে নিউইয়র্কের আদালতে আরসিবিসির বিরুদ্ধে মামলা করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু ২০২২ সালে আদালত জানায়, এই মামলা বিচারের ‘পর্যাপ্ত এখতিয়ার’ তাদের নেই। এরপর পুনরায় নিউইয়র্কের সংশ্লিষ্ট আদালতে মামলা করা হলেও দেশে চলমান ফৌজদারি মামলার তদন্ত ৯৪ বার পিছিয়ে যাওয়ায় বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে জনমনে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।