মাদারীপুরে সরকারি উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের দেওয়া টিফিনের খাবার খেয়ে অন্তত ২০ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হওয়ার ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় দায়ীদের শনাক্ত ও ঘটনার কারণ উদঘাটনে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন।
বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে মাদারীপুর সদর উপজেলার বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরকারি ফিডিং কার্যক্রমের আওতায় শিক্ষার্থীদের মাঝে পাউরুটি ও ডিম বিতরণ করা হয়। ‘সমতা ট্রেডার্স’ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সরবরাহকৃত এই খাবার খাওয়ার কিছুক্ষণ পরই শিক্ষার্থীদের মধ্যে পেট ব্যথা, বমি ও ডায়রিয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়।
অসুস্থ শিক্ষার্থীদের মধ্যে পোকরারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৬ শিক্ষার্থীকে গুরুতর অবস্থায় জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া রাজারচর, হাউজদি ও করদি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ আরও বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
জেলা প্রশাসক মর্জিনা আক্তার স্বাক্ষরিত চিঠিতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জুয়েল আহম্মেদকে প্রধান করে ৫ সদস্যের এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ৩ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মাদারীপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ফজলে এলাহী জানিয়েছেন:
খাবারগুলো ছিল মেয়াদোত্তীর্ণ এবং নিম্নমানের।
ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে।
সরবরাহকারী ডিলারদের সতর্ক করা হয়েছে এবং তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তীতে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, দায়সারা মন্তব্য করেছেন ‘সমতা ট্রেডার্স’-এর অপারেশন ম্যানেজার এএফএম আহাসানুল হাবিব। তিনি বলেন, “জেলায় ৭২৩টি বিদ্যালয়ে প্রায় ৮৯ হাজার শিক্ষার্থীকে টিফিন দেওয়া হয়। এতে সামান্য সমস্যা হতেই পারে, আবার নাও হতে পারে।” তার এই মন্তব্য অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।