যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যেকার নবঘোষিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির ২৪ ঘণ্টা পার না হতেই বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। লেবাননে ইসরাইলি বাহিনীর বিধ্বংসী বিমান হামলার পর ওয়াশিংটনকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে এখন যুদ্ধবিরতি অথবা ইসরাইলের পক্ষে যুদ্ধ— এই দুটির যেকোনো একটি বেছে নিতে হবে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে আরাগচি বলেন: “যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের যুদ্ধবিরতির শর্তগুলো পরিষ্কার এবং স্পষ্ট। যুক্তরাষ্ট্রকে এখন অবশ্যই বেছে নিতে হবে যে তারা যুদ্ধবিরতি চায়, নাকি ইসরাইলের পক্ষে যুদ্ধ করতে চায়। কারণ, এই দুটো একসঙ্গে চলতে পারবে না। লেবাননে যে বিধ্বংসী হামলা এবং বেপরোয়া হত্যাকাণ্ড চলছে, পুরো পৃথিবী তার সাক্ষী। বল এখন যুক্তরাষ্ট্রের কোর্টে। তারা তাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ করবে কি না, তা বিশ্ব দেখছে।”
গত ৭ এপ্রিল মঙ্গলবার ১৫ দিনের একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এই সময়ের মধ্যে একটি স্থায়ী সমাধানের পথ খোঁজার কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছিল। কিন্তু বুধবার দিনভর লেবাননজুড়ে শতাধিক বিমান হামলা চালায় ইসরাইলি বিমানবাহিনী। এই হামলার ফলে যুদ্ধবিরতি চুক্তির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তেহরান।
লেবাননের বর্তমান পরিস্থিতি:
নিহত: সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী ২৫৪ জন।
আহত: ১ হাজার ১০০ জনেরও বেশি।
উদ্ধার অভিযান: লেবাননের ফায়ার সার্ভিস ও উদ্ধারকারী বাহিনী জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে আটকা পড়ে থাকতে পারেন, ফলে প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইসরাইলের এই আগ্রাসন সরাসরি ওয়াশিংটন-তেহরান শান্তি প্রক্রিয়াকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে। যদি যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলকে নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়, তবে ১৫ দিনের এই সংক্ষিপ্ত শান্তি প্রক্রিয়া শুরুতেই ভেস্তে যেতে পারে।