ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই আইনের প্রয়োজনীয় সংশোধন ও আধুনিকায়নের বিষয়ে খুব দ্রুতই সাংবাদিক ও গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাজধানীর ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) কার্যালয়ে আয়োজিত এক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, “সরকার দেশের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। ডিজিটাল নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সরকার কঠোর অবস্থান নিতে চায় না, বরং নাগরিকদের অধিকার ও সুরক্ষার বিষয়টি প্রাধান্য পেতে হবে। তবে স্বাধীনতা এবং নৈরাজ্যের মধ্যে যে সূক্ষ্ম পার্থক্য রয়েছে, তা আমাদের সবাইকে অনুধাবন করতে হবে।” তিনি আরও জানান, গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ নয়, বরং দায়িত্বশীল সাংবাদিকতাকে উৎসাহিত করাই এই আইন সংস্কারের মূল লক্ষ্য।
একই অনুষ্ঠানে সিপিডির সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বৈধ হলেও অনির্বাচিত হওয়ার কারণে অনেক ক্ষেত্রে আমলাতন্ত্রের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে হিমশিম খেয়েছে। ফলে সংস্কার কার্যক্রমে তারা পুরোপুরি সফল হতে পারেনি।”
ড. ভট্টাচার্য আরও বলেন, “অতীতের সরকারগুলোর তুলনায় বর্তমান নির্বাচিত সরকারের আমলাতন্ত্র মোকাবিলা ও নীতি নির্ধারণে তুলনামূলক সক্ষমতা বেশি। তবে এই সক্ষমতা কাজে লাগাতে প্রশাসন ও রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও কার্যকর নজরদারি অপরিহার্য।”
তিনি মনে করেন, অর্থনীতিকে টেকসই ও গতিশীল রাখতে সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া। বিশেষ করে অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ ছয় মাসে সংস্কার কার্যক্রমে যে স্থবিরতা দেখা দিয়েছিল, তা কাটিয়ে উঠে বর্তমান সরকারকে দ্রুত ও সাহসী পদক্ষেপ নিতে হবে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।