বিচারকদের অভ্যন্তরীণ মতপ্রকাশের জেরে শোকজ করার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক এবং কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি বিচার বিভাগের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে এই সংশয় প্রকাশ করেন।
১. অভ্যন্তরীণ মতপ্রকাশে বাধা: পোস্টের শুরুতেই তিনি উল্লেখ করেন যে, নিজেদের একটি অভ্যন্তরীণ গ্রুপে মতামত প্রকাশের দায়ে ২৮ জন বিচারককে শোকজ করা হয়েছে। তিনি প্রশ্ন করেন, বিচারকদের নিজেদের মধ্যে গঠনমূলক আলোচনা করার জায়গাটাও যদি নিরাপদ না থাকে, তবে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা আসলে কোথায়?
২. ‘চুপ থাকুন’ বার্তার হুঁশিয়ারি: হাসনাত আবদুল্লাহ মনে করেন, স্ক্রিনশট নিয়ে বিচারকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া একটি স্পষ্ট ভয় দেখানোর কৌশল। তার মতে, এর মাধ্যমে বিচারকদের প্রতি বার্তা দেওয়া হচ্ছে— ‘চুপ থাকুন, না হলে সমস্যায় পড়বেন’।
৩. ৫ আগস্ট পরবর্তী পরিবেশ নিয়ে শঙ্কা: তিনি বলেন, “৫ আগস্টের পর মনে হয়েছিল বিচারকরা অন্তত কিছুটা সাহস নিয়ে ভাবতে ও লিখতে পারছেন। কিন্তু বর্তমান অবস্থা সেই পরিবেশকে আবার ভয়ের মধ্যে ঠেলে দিচ্ছে। বিচার বিভাগে চাপ থাকলে সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথও সংকুচিত হয়ে যায়।”
৪. সিস্টেমের ক্ষতি ও পুনর্বিবেচনার দাবি: হাসনাত আবদুল্লাহ এই ঘটনাকে কোনো ব্যক্তি বিশেষের বিষয় না দেখে পুরো বিচার ব্যবস্থার বা ‘সিস্টেমের’ সংকট হিসেবে দেখছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, বিচারকদের কণ্ঠ নিয়ন্ত্রণ করলে তার ক্ষতিপূরণ পুরো দেশকেই দিতে হবে। তাই এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার দাবি জানান তিনি।
৫. উপসংহার: সবশেষে তিনি মন্তব্য করেন, “বিচার বিভাগকে ভয় দেখিয়ে শক্তিশালী করা যায় না, বরং এতে বিচার বিভাগ আরও দুর্বল হয়ে পড়ে।”