জাতীয় নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না পেয়েও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে জয়ী সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা তার দলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
বিএনপিকে ধন্যবাদ কেন? সংসদে রুমিন ফারহানা বলেন, “আমাকে মনোনয়ন না দেওয়ার কারণেই আমি বুঝতে পেরেছি টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত কত লাখ মানুষ ভালোবাসা ও দোয়া নিয়ে আমার পাশে ছিলেন। দলীয় গণ্ডির ভেতর থেকে নির্বাচন করলে এই সৌভাগ্য আমার হতো না।” তিনি তার অসংখ্য নেতাকর্মীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান, যারা দলের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে এবং নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তার পাশে থেকে নির্বাচনী লড়াইয়ে শামিল হয়েছিলেন।
ক্ষমতার ভারসাম্যের দাবি সংসদীয় আলোচনায় রুমিন ফারহানা সংবিধানের বিদ্যমান কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তুলে ক্ষমতার ভারসাম্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন:
রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা: প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ছাড়া রাষ্ট্রপতিকে সব কাজই প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে করতে হয়। এই ক্ষমতার ভারসাম্য আনা অত্যন্ত জরুরি।
দলের অবস্থান: বিএনপি তাদের ‘ভিশন ২০৩০’ এবং ‘৩১ দফা’য় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্যের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব রেখেছে।
রাষ্ট্রপতির ভাষণ: তিনি আক্ষেপ করে বলেন, মন্ত্রিসভার নির্ধারিত ভাষণের বাইরে রাষ্ট্রপতি নিজের মতো করে কিছু বলতে না পারার বিষয়টি দুঃখজনক। তিনি বলেন, “আমরা যদি রাষ্ট্রপতিকে এতটুকু স্বাধীনতা দিতে না পারি, তবে ভারসাম্যের কথা বলা অর্থহীন।”
বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা বক্তব্যের একপর্যায়ে রুমিন ফারহানা আবেগাপ্লুত হয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, “আমি বেগম খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি, যিনি আমাকে পরম স্নেহে রাজনীতিতে এনেছিলেন। এই সংসদে তার অনুপস্থিতি এক বিরাট শূন্যতা, যা কোনোদিন পূরণ হওয়ার নয়।”
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আজকের অধিবেশনে রুমিন ফারহানার এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।