গুম, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলোকে স্থায়ী আইনে রূপান্তর না করার সরকারি সিদ্ধান্তকে ‘পেছনে হাঁটার ইঙ্গিত’ হিসেবে অভিহিত করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি অবিলম্বে এই অধ্যাদেশগুলোকে জাতীয় সংসদে উত্থাপন ও আইনে পরিণত করার জোর দাবি জানিয়েছে।
টিআইবি’র পর্যবেক্ষণ ও উদ্বেগ টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান আজ এক সংবাদ সম্মেলনে এই গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, সরকার মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি আইনে রূপান্তরের সুপারিশ করেছে, যা ইতিবাচক হলেও গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়ে বড় ধরনের দুর্বলতা রয়ে গেছে।
ড. ইফতেখারুজ্জামানের উদ্বেগের মূল জায়গাগুলো হলো:
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা: বিচারক নিয়োগ এবং পৃথক সচিবালয় সংক্রান্ত অধ্যাদেশগুলো আইনে পরিণত না করাকে তিনি বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য বড় হুমকি বলে মনে করছেন।
দায়বদ্ধতার অভাব: গুরুত্বপূর্ণ এই অধ্যাদেশগুলো আইনে পরিণত না হলে দেশে আইনের শাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা বাধাগ্রস্ত হবে।
মানদণ্ডে অযোগ্য আইন: টিআইবি পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশসহ কয়েকটি প্রস্তাবিত আইনকে স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতার মানদণ্ডে ‘অযোগ্য’ বলে উল্লেখ করেছে এবং এগুলো বাতিলের দাবি জানিয়েছে।
ফলাফল কী হতে পারে? ড. ইফতেখারুজ্জামান আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, সরকার যদি জরুরি এই অধ্যাদেশগুলোকে আইনে রূপান্তর না করে, তবে তা সুশাসন ও দুর্নীতি প্রতিরোধের ক্ষেত্রে দেশকে অনেক বছর পিছিয়ে দেবে। তিনি সতর্ক করেন যে, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা ও মানবাধিকার রক্ষার কাঠামোটি ভেঙে পড়তে পারে।
টিআইবি’র মতে, জাতীয় স্বার্থে কোনো রাজনৈতিক বিভেদ বা হঠকারিতার উর্ধ্বে উঠে জনগণের মৌলিক অধিকার ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।