দূরত্ব: পারস্য উপসাগরের মার্কিন ঘাঁটি বা বিমানবাহী জাহাজ থেকে ইরানের মূল স্থাপনাগুলো ৬০০ মাইলেরও বেশি দূরে অবস্থিত, যা লজিস্টিক সাপ্লাই চেইনকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে।
প্রাকৃতিক বাধা: পশ্চিম ইরানজুড়ে ১০০০ মাইল বিস্তৃত জাগরোস পর্বতমালা একটি শক্তিশালী প্রাকৃতিক প্রাচীর হিসেবে কাজ করছে।
স্থাপনার অবস্থান: ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো মাটির গভীরে ও পাহাড়ি টানেলে এমনভাবে স্থাপিত যে, সেখানে পৌঁছে ইউরেনিয়াম সংগ্রহ ও প্যাকেজ করা অত্যন্ত জটিল।
তেহরান গত ৪০ বছরে বিপুল ব্যয়ে এক নিচ্ছিদ্র প্রতিরক্ষা কাঠামো গড়ে তুলেছে:
বাইরের স্তর: দূরপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যা অনেক দূর থেকেই হুমকি শনাক্ত করতে সক্ষম।
মধ্যম স্তর: উচ্চ গতিশীলতার মাঝারি পাল্লার ব্যবস্থা, যা ড্রোন ও ক্রুজ মিসাইল মোকাবিলা করে।
ভিতরের স্তর: ‘মিসাঘ’ ও ‘শাহাব সাকেব’-এর মতো কাঁধে বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র, যা হেলিকপ্টার ও নিচু দিয়ে উড়া বিমানের জন্য যমদূত।
ইরান দাবি করেছে যে, আইআরজিসি (IRGC), বাসিজ মিলিশিয়া এবং স্বেচ্ছাসেবক মিলিয়ে তাদের ১০ লাখেরও বেশি সশস্ত্র যোদ্ধা প্রস্তুত রয়েছে। সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট এসহাক জাহাঙ্গিরি কড়া বার্তা দিয়ে বলেছেন, “ইরানের এক ইঞ্চি জমি দখল করতে হলে রক্তের সাগর পার হতে হবে”।
মার্কিন বাহিনীর মূল লক্ষ্য হতে পারে প্রায় ৪৫০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উদ্ধার করা। কিন্তু গোলাগুলির মধ্যে বিশেষ কন্টেইনারে এই তেজস্ক্রিয় উপাদান প্যাকেজ করা এবং দীর্ঘ সময় নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা প্রায় অসম্ভব একটি কাজ, কারণ ইরানি যোদ্ধারা প্রয়োজনে স্থাপনা ও যন্ত্রপাতি ধ্বংস করে দেওয়ার নীতি গ্রহণ করতে পারে।
মার্কিন স্থল অভিযান শুরু হলে ইরান শুধু নিজের সীমান্ত রক্ষা করবে না, বরং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন ফ্রন্ট খুলে দেবে:
লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দেব ও হরমুজ প্রণালি বন্ধের চেষ্টা।
মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও অবকাঠামোতে একযোগে আক্রমণ।