এই আইনের কয়েকটি বিশেষ দিক নিয়ে আইনি বিশেষজ্ঞরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন:
কেবল ফিলিস্তিনিদের জন্য: আইনটি শুধুমাত্র সামরিক আদালতের অধীনে থাকা পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিদের ওপর প্রযোজ্য হবে। ইসরায়েলি ইহুদিরা যদি কোনো ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেন, তবে তাঁদের ক্ষেত্রে এই আইন কার্যকর হবে না।
সহজ সংখ্যাগরিষ্ঠতা: মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য বিচারকদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের প্রয়োজন হবে না; কেবল সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারক একমত হলেই ফাঁসি দেওয়া যাবে।
ক্ষমার সুযোগ নেই: এই আইনে দণ্ডিত ব্যক্তির জন্য কোনো ধরনের মার্জনা বা রাজক্ষমার সুযোগ রাখা হয়নি।
ইসরায়েলের ভেতরেই মানবাধিকার সংগঠন 'অ্যাসোসিয়েশন ফর সিভিল রাইটস' সুপ্রিম কোর্টে এই আইনের বিরুদ্ধে পিটিশন দাখিল করেছে। তারা একে "পরিকল্পিত বৈষম্য" হিসেবে অভিহিত করেছে। অন্যদিকে, মানবাধিকার সংস্থা 'বি'তসেলেম' (B'Tselem) সতর্ক করেছে যে, সামরিক আদালতে ৯৬% ক্ষেত্রে সাজার রায় হয়, যার অনেকগুলোই চাপ প্রয়োগ বা নির্যাতনের মাধ্যমে নেওয়া স্বীকারোক্তির ওপর ভিত্তি করে।
আন্তর্জাতিক মহলের অবস্থান:
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ (PA): একে "যুদ্ধাপরাধ" এবং চতুর্থ জেনেভা কনভেনশনের লঙ্ঘন বলে বর্ণনা করেছে।
ইউরোপীয় দেশগুলো: ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি এবং যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এই আইনের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল: সংস্থাটি একে ইসরায়েলের "অ্যাপার্থাইড" বা বর্ণবাদী ব্যবস্থার আরেকটি বৈষম্যমূলক হাতিয়ার হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
উল্লেখ্য যে, ১৯৬২ সালে নাৎসি যুদ্ধাপরাধী অ্যাডলফ আইখম্যানের পর ইসরায়েলে আর কারো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়নি। দীর্ঘ ৬৪ বছর পর আবারও দেশটিতে এই প্রথা ফিরে আসছে।