২০১৪ সাল থেকে ইয়েমেনের বড় অংশের নিয়ন্ত্রণে থাকা হুতিরা (শিয়া সম্প্রদায়) দীর্ঘদিনের যুদ্ধ অভিজ্ঞতা সম্পন্ন। তাদের গুরুত্ব কেবল ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নয়, বরং তাদের ভৌগোলিক অবস্থানে:
ভৌগোলিক সুবিধা: লোহিত সাগরের অত্যন্ত সরু বাব আল-মানদেব প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করা বাণিজ্যিক জাহাজগুলো হুতিদের ড্রোন ও ছোট নৌকার সহজ লক্ষ্যবস্তু।
নেতৃত্বের সুরক্ষা: ২০২৫ সালে ইসরায়েলি হামলায় হুতি প্রধানমন্ত্রী ও সামরিক প্রধান নিহত হলেও, গোষ্ঠীটির মূল নেতা আবদুল মালিক আল-হুতি এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে।
চ্যাথাম হাউসের বিশেষজ্ঞ ফারেয়া আল-মুসলিমির মতে, লোহিত সাগরে দীর্ঘমেয়াদে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে জাহাজ ভাড়া এবং তেলের দাম আকাশচুম্বী হবে। ইতিমধ্যেই হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় তেলের বাজার অস্থির, তার ওপর লোহিত সাগর বন্ধ হওয়া মানে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়া।
হুতিরা এই যুদ্ধে জড়ানোর ক্ষেত্রে কিছুটা সতর্কতাও অবলম্বন করতে পারে। এর কারণ:
সৌদি আরবের ভূমিকা: হুতিরা রিয়াদের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তার আশা করছে।
এসটিসি ফ্যাক্টর: ইয়েমেনের দক্ষিণের বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন (STC) দমনে সৌদি আরব কাজ করছে। রিয়াদ এখন হুতিদের সঙ্গে একটি কার্যকর চুক্তিতে পৌঁছাতে চায় যাতে লোহিত সাগরে হামলার ঝুঁকি কমানো যায়।
ইয়েমেনের জন্য জাতিসংঘের বিশেষ দূত হ্যান্স গ্রুন্ডবার্গ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, “এই উত্তেজনা ইয়েমেনকে একটি আঞ্চলিক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এতে ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ শান্তি প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হবে এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও দীর্ঘায়িত হবে।”