গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে ডিপোর ৩টি বড় তেলের ট্যাংক সরেজমিনে মেজারিং টেপ দিয়ে পরিমাপ করা হয়। পরিমাপে দেখা যায়:
৯ নম্বর ট্যাংক: এখানে নথিপত্রের চেয়ে ১২ হাজার ৮১৮ লিটার বেশি তেল পাওয়া গেছে।
১ নম্বর ট্যাংক: এখানে নথির চেয়ে ৯৩২ লিটার বেশি তেল মজুত ছিল।
১৪ নম্বর ট্যাংক: এখানে আবার নথির চেয়ে ১ হাজার ১৩৭ লিটার তেল কম পাওয়া গেছে।
সব মিলিয়ে মোট ১২ হাজার ৬১৩ লিটার তেলের বিশাল গরমিল পাওয়া গেছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ১২ লাখ ১০ হাজার ৮৫০ টাকা। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এত বড় অংকের ব্যবধান কোনোভাবেই স্বাভাবিক পরিমাপের ত্রুটি হতে পারে না।
তদন্ত সংশ্লিষ্টদের মতে, ট্যাংকে তেলের পরিমাণ কাগজে-কলমে কম দেখিয়ে অতিরিক্ত তেল মজুত রাখা হতো, যাতে পরবর্তীতে তা অবৈধভাবে সরিয়ে বা চুরি করে বিক্রি করা যায়। প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় ব্যবস্থাপক আল আমিন খানকে বরখাস্তের পাশাপাশি ১০ দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে মোংলা ডিপো থেকে তেল সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন) অনুপ দাস জানিয়েছেন, পুরো ঘটনার বিস্তারিত প্রতিবেদন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) বরাবর পাঠানো হয়েছে। বিপিসি কর্তৃপক্ষ এখন এই জালিয়াতির নেপথ্যে থাকা চক্রের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত আইনি ব্যবস্থা নেবে।