ডা. শফিকুর রহমান তাঁর বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল লক্ষ্য ছিল গণতন্ত্র, আইনের শাসন, ন্যায়বিচার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা। ক্ষুধা-দারিদ্র্য, বেকারত্ব ও দুঃশাসন মুক্ত একটি সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে সর্বস্তরের জনতা মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। কিন্তু বাস্তবে আজও দেশে ঘুষ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলবাজিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। নাগরিকরা এখনো জানমাল ও ইজ্জতের পূর্ণ নিরাপত্তা ভোগ করতে পারছে না।
জামায়াত আমির বলেন, ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক জুলাই গণ-আন্দোলনের মাধ্যমে দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে মানুষ মুক্তি লাভ করেছে। দেশে একটি ফ্যাসিবাদমুক্ত পরিবেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। দেশবাসীর প্রত্যাশা ছিল, এমন পরিস্থিতিতে আর কেউ নতুন করে ফ্যাসিবাদী হয়ে ওঠার দুঃসাহস দেখাবে না। মানুষ ভয়ভীতিমুক্ত পরিবেশে চলাফেরা করতে পারবে এবং কথা বলতে পারবে। ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে সবাই মিলেমিশে সুখে-শান্তিতে বসবাস করবে।
বিবৃতিতে ডা. শফিকুর রহমান ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ বাস্তবায়নে সরকারের অনীহার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি মনে করিয়ে দেন, দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো এই সনদে স্বাক্ষর করেছে এবং গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ নাগরিক ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে এটি বাস্তবায়নের পক্ষে ম্যান্ডেট দিয়েছে। তিনি সরকারকে হুঁশিয়ার করে বলেন, “জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে কোনো টালবাহানা জনগণ মেনে নেবে না। অবিলম্বে সরকারকে এই সনদ দ্রুত বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।”
বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন প্রান্তে চলমান যুদ্ধের কথা উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সারা দুনিয়া এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে এবং মানবতা আজ হুমকির সম্মুখীন। এমন সংকটময় মুহূর্তে তিনি দেশবাসীর সুখ-সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করেন। তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণ-আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।