সোমবার ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, ইরানের সাথে তার প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ঐক্যমত হয়েছে এবং আলোচনার অগ্রগতির কারণে তিনি হামলা পাঁচ দিন স্থগিত রাখছেন। এর জবাবে জুলফাকারি বলেন, “তোমাদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব কি এতটাই বেড়েছে যে এখন নিজের সাথেই নিজে আলোচনা করছো? ইরানের সাথে কোনো আলোচনা হচ্ছে না, যুক্তরাষ্ট্র কার্যত নিজের সাথেই নিজে কথা বলছে।”
জুলফাকারি স্পষ্ট করে বলেন যে, যতদিন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র স্বীকার না করবে যে মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর মাধ্যমেই নিশ্চিত হয়, ততদিন পর্যন্ত কোনো আলোচনার সুযোগ নেই। তিনি মার্কিন নেতৃত্বকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “আমাদের মতো আদর্শিক মানুষের সঙ্গে তোমাদের মতো সুবিধাবাদী মানুষের কখনোই মিল হতে পারে না।”
জুলফাকারি কেবল রাজনৈতিক নয়, অর্থনৈতিক হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, এই যুদ্ধের ফলে বিশ্ববাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ আর আগের অবস্থায় ফিরবে না। এমনকি যুদ্ধের আগের কম মূল্যের জ্বালানিও বিশ্ববাসী আর ফিরে পাবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের আলোচনার দাবি সম্ভবত বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণ এবং নিজের পড়ে যাওয়া জনপ্রিয়তা (বর্তমানে ৩৬%) উদ্ধারের একটি কৌশল ছিল। কিন্তু ইরানের এই কঠোর ও সরাসরি প্রত্যাখ্যান ট্রাম্পের সেই কৌশলকে বড় ধরনের ধাক্কা দিল। বিশেষ করে ইস্পাহান ও খোররামশহরে হামলার পর ইরানের এই অনমনীয় অবস্থান সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার সংকেত দিচ্ছে।