এর আগে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ট্রাম্প দাবি করেন, গত দুই দিনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অত্যন্ত ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তিনি আগামী পাঁচ দিন ইরানের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা না চালাতে প্রতিরক্ষা বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছেন। ট্রাম্পের এই বার্তার পরপরই বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় ধরনের ধস নামে। ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্সের দাম ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে প্রতি ব্যারেল ৯৬ ডলারে নেমে আসে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ট্রাম্পের এই দাবিকে নাকচ করে বলেছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই মন্তব্যের একমাত্র উদ্দেশ্য হলো আকাশচুম্বী জ্বালানির দাম কমানো এবং পরবর্তী সামরিক পদক্ষেপের জন্য সময় নেওয়া। বিবৃতিতে বলা হয়, “ওয়াশিংটন নিজেই এই যুদ্ধ শুরু করেছে, তাই উত্তেজনা কমাতে চাইলে তাদেরই উদ্যোগ নিতে হবে।” ইরান আরও জানায়, কোনো আলোচনা ছাড়াই ট্রাম্প এই মিথ্যা প্রচার করছেন।
এর আগে ট্রাম্প আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন যে, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত না করলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করে দেওয়া হবে। পাল্টা জবাবে তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যদি তাদের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যের সব মার্কিন মালিকানাধীন জ্বালানি স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথে মাইন স্থাপন করা হবে। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট তেলের এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি হামলায় বিশ্ব অর্থনীতি টালমাটাল। তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ট্রাম্প বারবার মিশ্র বার্তা দিলেও মাঠপর্যায়ে যুদ্ধের দামামা কমছে না। ইরানের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে সাম্প্রতিক হামলার পর উত্তেজনা এখন চরম পর্যায়ে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | জুলফিকার