পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে ঘরমুখী মানুষের উপচে পড়া ভিড় ও যানবাহনের অতিরিক্ত চাপে সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘ যানজট। আজ বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) ভোর থেকে যমুনা সেতু থেকে টাঙ্গাইলের রাবনা বাইপাস পর্যন্ত প্রায় ২৫ কিলোমিটার এলাকায় যানবাহন অত্যন্ত ধীরগতিতে চলাচল করছে। মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে এবং সেতুর ওপর একাধিক যানবাহন বিকল হয়ে যাওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, যা যাত্রীদের ভোগান্তি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় এই সেতু দিয়ে রেকর্ড সংখ্যক ৫১ হাজার ৫৮৪টি যানবাহন পারাপার হয়েছে, যা থেকে টোল আদায় হয়েছে ৩ কোটি ৫১ লাখ ৮২ হাজার ৬০০ টাকা। তবে বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত সেতুর ওপর অন্তত ১৩টি গাড়ি বিকল হয়ে পড়ার কারণে যান চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে। বর্তমানে সেতুর দুই পাড়ে মোট ১৮টি বুথ দিয়ে যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে, যার মধ্যে মোটরসাইকেলের জন্য আলাদা চারটি বুথ রাখা হয়েছে। যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন জানিয়েছেন, বিকল হওয়া গাড়িগুলো দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চললেও অতিরিক্ত চাপের কারণে দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে।
এদিকে মহাসড়কে তীব্র যানজটের কারণে বিশেষ করে নারী ও শিশুরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। অনেক যাত্রী উপায় না পেয়ে খোলা ট্রাক বা পিক-আপ ভ্যানে করেই ঝুঁকিপূর্ণভাবে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। চালক ও যাত্রীদের অভিযোগ, স্বাভাবিক সময়ে যে পথ পাড়ি দিতে তিন ঘণ্টা লাগত, এখন সেখানে ছয় থেকে আট ঘণ্টা সময় ব্যয় হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে মহাসড়কে জেলা পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর সদস্যরাও নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।