প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বদানশৈলী ও কর্মপদ্ধতির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক বিন মাহমুদ হারুন। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাজের ধরন এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে নিজের প্রতিষ্ঠানের আগামী ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ‘তিন ইতিবাচক দিক’
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা শেয়ার করে আশিক চৌধুরী উল্লেখ করেন, গত এক মাসে বিভিন্ন আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক ও ব্যক্তিগত পর্যালোচনায় তিনি প্রধানমন্ত্রীর তিনটি বিশেষ গুণ লক্ষ্য করেছেন যা তাকে আশাবাদী করেছে:
- ধৈর্যশীল শ্রোতা: প্রধানমন্ত্রী সবার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনছেন এবং কারো ওপর কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিচ্ছেন না।
- ফলাফলমুখী চিন্তা: প্রতিটি উদ্যোগের বিপরীতে এর সুফল কী এবং কত দ্রুত তা পাওয়া যাবে—সেদিকেই তাঁর মূল নজর।
- দৃষ্টান্তমূলক নেতৃত্ব: সময়ানুবর্তিতা ও শিষ্টাচারের মতো বিষয়গুলো তিনি নিজে চর্চা করে অন্যদের অনুপ্রাণিত করছেন।
বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে ১৮০ দিনের ‘রেজাল্ট কার্ড’
সরকারি সংস্থায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আগামী ছয় মাসের জন্য ২৫টি পদক্ষেপের একটি পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন বিডা চেয়ারম্যান। বৈশ্বিক অস্থিরতা ও জ্বালানি সংকটের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানোই এর মূল লক্ষ্য। পরিকল্পনার উল্লেখযোগ্য দিকগুলো হলো:

- বেসরকারিকরণ: বন্ধ ও রুগ্ন সরকারি কারখানাগুলোকে পিপিপি (PPP) মডেলে সচল করা।
- নতুন নীতিমালা: ফ্রি ট্রেড জোন ও সমরাস্ত্র শিল্প নিয়ে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন।
- জ্বালানি ও বাণিজ্য: বিকল্প জ্বালানি অনুসন্ধান এবং কোরিয়া-বাংলাদেশ ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট সম্পন্ন করা।
- ডিজিটালাইজেশন: দুর্নীতি রোধে সমুদ্র ও বিমানবন্দরে আধুনিক ব্যবস্থাপনা এবং 'বাংলাবিজ' প্ল্যাটফর্মের সম্প্রসারণ।
- উপদেষ্টা কাউন্সিল: বেসরকারি খাতের জন্য প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ অ্যাডভাইসরি কাউন্সিল গঠন।
আশিক চৌধুরী জানান, আগামী ছয় মাস পর এই পরিকল্পনাগুলোর সাফল্য ও ব্যর্থতা নিয়ে একটি 'রেজাল্ট কার্ড' প্রকাশ করা হবে।
ব্যক্তিগত প্রসঙ্গ ও প্যারাসুট জাম্প
পোস্টের শেষে কিছুটা রসিকতার ছলে তিনি জানান, তার কার্টুনিস্ট ভক্তদের জন্য সুখবর হলো—তিনি আবারো প্যারাসুট নিয়ে ঝাঁপ দেবেন। প্রধানমন্ত্রী হেসেই তাকে অনুমতি দিয়েছেন, তবে শর্ত দিয়েছেন যেন হাত-পা না ভেঙে সুস্থভাবে ফিরে আসেন। প্রধানমন্ত্রীর সাথে কোনো সেলফি না থাকার কারণ হিসেবে তিনি কাজের ব্যস্ততাকেই উল্লেখ করেছেন।