রোববার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশাল’-এ ট্রাম্প চীন, জাপান, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যসহ ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে হরমুজে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানান। এমনকি চীন সহায়তা না করলে বেইজিং সফর বাতিলের হুমকিও দেন তিনি। তবে মিত্র দেশগুলোর প্রতিক্রিয়া ট্রাম্পের জন্য সুখকর হয়নি।
জাপান: প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি পার্লামেন্টে স্পষ্ট জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে জাহাজ পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা টোকিওর নেই। যদিও জাপানের ৯৫ শতাংশ তেল এই অঞ্চল থেকে আসে, তবুও তারা আইনি সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে পিছু হটেছে।
অস্ট্রেলিয়া: প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজের মন্ত্রিসভার সদস্য ক্যাথেরিন কিং সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তারা এই অভিযানে কোনো নৌযান পাঠাবে না।
ইউরোপ: জার্মানির পররাষ্ট্র বিষয়ক মন্ত্রী ইয়োহান ভাদেফুল এই পরিকল্পনার কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন, তারা এই যুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণকারী হতে চান না। ফ্রান্সও জানিয়েছে, এখনই কোনো মিশনে যাওয়ার সুযোগ নেই।
ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে ইরানের নৌবাহিনী ধ্বংস হয়ে গেছে। এর জবাবে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (IRGC) মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলি মোহাম্মদ নাইনি ট্রাম্পকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেছেন: “ট্রাম্প যদি মনে করেন আমাদের নৌবাহিনী ধ্বংস হয়ে গেছে, তবে সাহস থাকলে তিনি তার নিজের জাহাজ পারস্য উপসাগরে পাঠিয়ে দেখুন।”
বর্তমানে হরমুজ প্রণালি কার্যত ইরানের দখলে। তেহরানের দাবি, তারা শুধু ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র বাদে বাকিদের জন্য জলপথ খোলা রেখেছে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের আলোচনার পর শনিবার দুটি ভারতীয় ট্যাংকার পার হওয়ার সুযোগ পেয়েছে, যা বিশ্ব রাজনীতিতে ভারতের কৌশলী অবস্থানের প্রমাণ দেয়।
বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল এই প্রণালি দিয়ে সরবরাহ হয়। বর্তমানে হাজারের বেশি জাহাজ ও ট্যাংকার হরমুজের আশেপাশে আটকা পড়ে আছে। গত তিন সপ্তাহে অন্তত ১০টি ট্যাংকারে হামলার খবর পাওয়া গেছে। যুদ্ধের ফলে এশিয়ার শেয়ার বাজারে পতন এবং তেলের বাজারে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে।
| দেশ/সংস্থা | অবস্থান |
| যুক্তরাষ্ট্র | আন্তর্জাতিক জোট গঠন করে ইরানকে হটানোর চেষ্টা। |
| ইরান | হরমুজের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এবং মার্কিন জাহাজকে চ্যালেঞ্জ। |
| জাপান/অস্ট্রেলিয়া | সরাসরি অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকার ঘোষণা। |
| চীন | উত্তেজনা কমিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পরামর্শ। |