আসামিপক্ষের আইনজীবী সাইদুর ইসলাম গণমাধ্যমকে এই আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত বিভিন্ন থানায় ২০টিরও বেশি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এর আগে গত ১১ মার্চ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভাটারা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. হাফিজুর রহমান নজরুল ইসলামকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেছিলেন। ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত আজ আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন ধার্য করেছিলেন এবং শুনানি শেষে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালীন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে আন্দোলন দমনের নামে যে নারকীয় তাণ্ডব চালানো হয়েছিল, নজরুল ইসলাম মজুমদার সেই পরিকল্পনার অংশীদার ছিলেন বলে অভিযোগ আনা হয়েছে।
রাজাকার সম্বোধন: ১৬ জুলাই শেখ হাসিনার দেওয়া ‘রাজাকার’ মন্তব্যের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামলে দেশজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
হামলার নির্দেশ: অভিযোগ রয়েছে, ১৮ জুলাই শেখ হাসিনার নির্দেশে ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ মিছিলে নির্বিচারে গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
বাদীর বক্তব্য: মামলার বাদী রোহান ১৮ জুলাই বেলা ২টায় জুলাই আন্দোলনের ব্যানারে মিছিলে অংশ নেন। এজাহার অনুযায়ী, আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে মিছিলে গণহারে গুলি ছুড়লে রোহান মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন।
উল্লেখ্য, গত ১ অক্টোবর ২০২৪ দিবাগত রাতে রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) নজরুল ইসলাম মজুমদারকে গ্রেপ্তার করে। তৎকালীন ব্যাংক খাতের অন্যতম প্রভাবশালী এই ব্যক্তি প্রায় দুই দশক ধরে এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যান এবং ব্যাংক মালিকদের সংগঠন বিএবি-র সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। গ্রেপ্তারের পর থেকেই তিনি বিভিন্ন মামলায় কারান্তরীণ রয়েছেন।